ইসরাইলী পণ্য বর্জন বা বয়কট আন্দোলন, তালিকা

কানিজ ফাতেমা

পন্য বা সেবা ব্যবহার বর্জনের মাধ্যমে ইসরাঈলের দখল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পণ্যসমূহ নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ থাকেন, এদের মধ্যে অনেকেই আবার এ নিয়ে ঠাট্টায় মেতে উঠেন। আসলে ইসরাঈলী পণ্য বলতে যেসব পণ্য সামনে আনা হয় সেসব আসলেই কতটা ইসরাঈলের এবং এসব বর্জনে আসলেই ইসরাঈলের কিছু যায় আসে কী?

বিষয়টি বুঝতে ইসরাঈল রাষ্ট্র কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে হবে।ইসরাঈল স্বাভাবিকভাবে সেই ভূখন্ডের মানুষ দ্বারা গঠিত কোন রাষ্ট্র নয় বরং ওই ভূখণ্ডের আদি অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে বাহির থেকে জাহাজ বোঝাই লোক এনে পশ্চিমের সর্বাত্নক সমর্থনে কৃত্রিমভাবে প্রতিষ্ঠিত; এই অব্যাহত পশ্চিমা সমর্থন কূটনৈতিক,রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক।

অর্থনৈতিক সমর্থন দু ভাবে করা হয়; ১। সরাসরি অনুদান প্রদানের মাধ্যমে, যেমন প্রতিবছর আমেরিকা ইসরাইলকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাদে শুধু আর্থিকভাবে ৩.৮ বিলিয়ন সাহায্য দিয়ে থাকে।  

২।ইসরাইলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ইসরাঈলকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে।

ব্যবসায়ের নামে দখলদার ভূমিতে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিই একেকজন দখলদার এবং তাদের পণ্যসমূহ বর্জনের জন্য পরিচালিত হয় BDS Movement (Boycott,Divestment & Sanctions)।এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী। বর্তমান বাস্তবতায় ইসরায়েলের সাথে কম বেশী ব্যবসায় সবাই করে, কিন্তু বিডিএস মুভমেন্টে সচরাচর উচ্চারিত পণ্যগুলো সরাসরি ইজরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিষ্ঠা করতেই সেখানে আছে এবং তাদের টিকে থাকতে বড়ধরনের সহযোগীতা করেছে বা করে যাচ্ছে। ইসরাঈলে এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অবদান এতটাই বেশী যে এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে পরলে ইসরাইলও ভেঙ্গে পরবে ।

HP(এইচপি)/Hewlett-Packard Israel:

This image has an empty alt attribute; its file name is hp-israel.jpg

১৯২২ সালে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে আমেরিকান-ইহুদীদের জন্য গড়ে তোলা হয় রা’আনানা শহর আর এই শহরে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় HPর সদর। দপ্তর বাকী দুনিয়ায় তারা মূলত হার্ডও্যায়ার নির্মান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও HP Israel প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দ্যশ্য ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে নিরাপত্তা ও সমরাস্ত্র বিষয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা দিয়ে সহযোগীতা করে যাওয়া।

ইসরায়েল নৌ বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও যান্ত্রিক অবকাঠামো Hpর  গড়ে দেয়া যে নৌ বাহিনী ২০০৭ থেকে সমুদ্রপথে আসা গাযার জন্য সমস্ত ত্রাণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিষ্ঠুরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।২০১০ সালে,এই খুনে নৌ বাহিনী গাযার জন্য সাহায্য সহায়তা নিয়ে আসা এক বহরের নয় জনকে গুলি করে হত্যা করে। ইসরায়েল নৌবাহিনীর জন্য গড়ে দেয়া HP এর একই মডেল পরবর্তীতে ইসরায়েলের বাকী বাহিনীগুলোতেও প্রয়োগ করা হয়।

২০০৯ সালে ইসরায়েল আর্মির সমস্ত কম্পিউটার সম্পর্কিত যন্ত্রাংশের যোগান দেয় HP Global.

ইসরায়েলের টিকে থাকার বা তাকে সুরক্ষা দেবার অন্যতম নিয়ামক হলো Basel Biometric System,এক বিশেষ জৈবিক সনাক্তকরন পদ্ধতি যাতে নানা কাজের খোঁজে ও প্রয়োজনে অধিকৃত ইসরায়েলে প্রবেশ করতে চাওয়া ফিলিস্তিনিদের আংগুলের ছাপ ও চোখের মনির সাহায্যে সনাক্ত করে সম্পূর্ণ রেকর্ড ইসরায়েলের ডাটাবেসে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। Baselই সর্বপ্রথম সাফল্যের সাথে ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের ভূখন্ডে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন ও নিয়িন্ত্রণে থাকা এক অনাহূত হিসেবে চিহ্নিত করে ও ফিলিস্তিনিদের যেকোন প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুরো ইসরায়েল এইরকম শত শত বাসেল বায়োমেট্রিক চেকপয়েন্ট দিয়ে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে চিকিৎসা ও ছোট খাটো কাজের প্রয়োজনে ফিলিস্তিনিরা অধিকৃত অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে বটে তবে তা ভীষণ হয়রানিমূলক ও অপমানজনক।ইসরায়েলে এই পদ্ধতির তুমুল সাফল্যের পর সারা পৃথিবীতেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি এখন তুমুল জনপ্রিয় যদিও এর প্রথম গিনিপিগ ফিলিস্তিনিরা।

This image has an empty alt attribute; its file name is palestinians-edited.jpg
চেকপোস্টের বাহিরে অপেক্ষমান এই এলাকার আদি অধিবাসী,ফিলিস্তিনিরা

Basel Biometric System এর মালিকানা ইসরায়েলের মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্সের,অর্থায়ন আমেরিকার এবং এর উন্নয়ন ,নিরাপত্তা ফাঁড়িগুলোয় এর প্রতিস্থাপন,পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে HP Israel।পরবর্তীতে বিডিএস মুভমেন্ট জোরদার হওয়ায় এইসব তথ্য গোপন করা হয় কিন্তু HP Israel ২০১৭ এর পর এখন শুধু ইসরায়েলে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিক্রি করে এমন ভাবারও কোন কারন নেই যখন এই চেকপয়েন্টগুলো থেকে HP Israel এর আয়ের পরিমান ছিলো শতকোটি। আজকাল আমি যখনই আমার বাসায় বা অন্য কোথাও এইচপির পণ্য দেখি স্রেফ ঘৃণা হয়।

বাংলাদেশে এইচপির যে পণ্যগুলো আসে তা সরাসরি আমেরিকা বা ইসরায়েলের সাথে সংযুক্ত নয় বরং চীন থেকে আমদানীকৃত।কিন্তু, এমন দূরবর্তী বয়কটের একটা ফলও মূল সদরদপ্তরগুলোতে পৌছে এবং তাদের নিট আয়ে প্রভাব ফেলে এবং যারা পশ্চিমে থাকেন তাদের এসব পণ্য বর্জন সরাসরি তাদের ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ করে।

বাংলাদেশে এইচপির পণ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হয় হয় ডেলের (Dell) পণ্য।ইহুদীমাত্রই জায়নাবাদী এমন একটা ধারনা অনেকের আছে এবং ডেল ইহুদী মালিকনাধীন। ইজরায়েলে বিনিয়োগের পাশাপাশি ২০১৪ সালে ডেল ১.৮ মিলিয়ন ডলার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সে অনুদান হিসেবে প্রদান করে। কিন্তু ইহুদী মালিকানাধীন হবার পরেও এই কোম্পানীর ইসরায়েল সেবা এইচপির আগ্রাসী ব্যবসায়েরর তুলনায় সামান্য মনে হয়,হয়তো এমন হতে পারে এইচপির যে কারিগরি সক্ষমতা ছিলো ডেলের তা ছিলোনা । তবে বিডিএস মুভমেন্টের পর ডেল ইসরায়েলের সাথে ব্যবসায় করার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশী সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেয়। ইজরায়েলে ডেলের চেয়েও বেশী বিনিয়োগ আছে লেনেভোর (Lenovo)।

ইন্টেলঃ HPর মত আরেক আগ্রাসী ইসরায়েল পৃষ্ঠপোষক হলো আমেরিকান টেক জায়ান্ট ইন্টেল। ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ইন্টেলের অবস্থান ফিনল্যান্ডের নোকিয়ার সমতুল্য।অন্যান্য টেক জায়ান্টরা যেখানে ইসরায়েলে শুধুমাত্র গবেষনাগার খুলে যেমন এপল,স্যামসাং; ইন্টেল সেখানে চারটি গবেষনা কেন্দ্রের পাশাপাশি ইসরায়েলেই তাদের প্রোডাক্ট তৈরী করে, এইমুহূর্তে যে কম্পিউটারে আপনি লেখাটি পড়ছেন এবং মাইক্রোপ্রসেসর যদি ইন্টেলের হয় তবে ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা যে সেটি ইসরায়েলের কিরাইয়াট গাট বা জেরুসালেমের কারখানায় তৈরী।ইসরায়েল থেকে রপ্তানীকৃত মোট পন্যের ১৪% বা তারও বেশী ইন্টেলের। ইসরায়েলের দূর্বল প্রতিষ্ঠাণগূলো কিনে নেয় অর্থাৎ ইসরায়েল থেকে আয় করা অর্থ ইসরায়েলেই বিনিয়োগ করে, অসংখ্য উদ্যোক্তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, জ্ঞান-বিজ্ঞান,গবেষণার প্রতি ইজরায়েলের অনুরাগ, যেমন বিশ্বে মাথাপিছু প্রতি গবেষণায় বিশ্বে ইজরায়েল এক নম্বরে বা তাদের মেধা নিয়ে যা বাজারে চালু আছে তাতে ইজরায়েলের অবদান অতি সামান্যই, এর ৯০ শতাংশ বা তারও বেশী পশ্চিমাদের গড়ে দেয়া।

This image has an empty alt attribute; its file name is netaneyahu.png

ইন্টেলে নেতানিয়াহু

প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে ২০১৭ পর্যন্ত, মোট ১২ বছরে ইসরায়েলে ইন্টেলের বিনিয়োগ ছিলো প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের, ২০১৯ সালে বিনিয়োগ করা হয় ৫ বিলিয়ন দুই ফিলিস্তিনি গ্রাম ফালুজা এবং ইরাক-আল-মানসিয়া দখল করে গড়ে তোলা শহর কিরইয়াট গাটে তাদের প্ল্যান্ট বর্ধিতকরন প্রকল্পে।

This image has an empty alt attribute; its file name is pikiwiki_israel_16194_kiryat_gat-1.jpg
দখলদারদের ঝা চকচকে আবাসনে ঢাকা বর্তমান কিরিইয়াট গাট

২০২১ ইন্টেল আরো ৬০০ মিলিয়ন ব্যয় করার ঘোষনা দেয় মেগা চিপ ডিজাইন গবেষোণায় যাতে কম্পিউটারকে আরো উন্নত ও হালকা করা যায় ও ১০ বিলিয়ন ডলার কিরইয়াট ঘাট সেমিকন্ডাক্ট্রর প্ল্যান্টে; এতে কর্মসংস্থান হবে আরো ৬০০০ হাজার ইসরায়ীলীর। বর্তমানে ইন্টেলে কর্মরত ইসরাঈলীর সংখ্যা ১২,০০০, চুক্তিভিত্তিক ও সাপ্লাইয়ার মিলে যার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চল্লিশ হাজারে।

ইন্টেল তাদের বিনিয়োগ শুধু ইন্টেলের পেছনেই করেনা,২০২০ সালে এটি ১৫.৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় জেরুসালেমে অবস্থিত ড্রাইভারবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি উদ্ভাবনের ইসরাইলী কোম্পানি মোবাইল আই (Mobileye),বর্তমানে যার বার্ষিক আয় ১ বিলিয়ন ডলার । তবে চিপ শিল্পে ইন্টেলের আগের দাপট কমে এসেছে, সেই সাথে কমে এসেছে ইজরায়েলে তাদের ফান্ডিঙয়ের পরিমানও, এখন ইজরায়েলে অর্থ লগ্নিকারী বড় প্রতিষ্ঠান হলো আমেরিকার নতুন চিপ জায়ান্ট Nvidia। গত ৫ বছরে Nvidia শত শত মিলিয়ন ডলার ইজরায়েলে বিনিয়োগ করেছে, ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচে তৈরী করে দিয়েছে ইজরায়েলে নির্মিত প্রথম AI জেনেরেটেড সুপার কম্পিউটার Israel 1। এমনকি ৭ ই অক্টোবর পরবর্তী ইজরাঈলী গণহত্যার মধ্যেও এট ইজরায়েলে এ বছর তাদের বিলিয়ন ডলারের লগ্নি জারি রাখে।

This image has an empty alt attribute; its file name is guysinline.jpg

বিকল্পঃ Intel, Nvidia এর খুব ভালো বিকল্প AMD Ryzen microprocessor.

Meta, Instagram, Whatsapp: কয়েকবছর আগের কথা, হোয়াটসএপ ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করবার ঘোষনা দেয়াতে বিশ্বের সবখানে হোয়াটসএপ বয়কটের আওয়াজ ওঠে। রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠে টেলিগ্রাম, সিগনাল ও তুরস্কের বিপ এপস। অবস্থা বেগতিক দেখে হোয়াটসএপ ব্যবহারকারীদের তথ্য এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড থাকবে বলে ঘোষনা দেয় যা আজ পর্যন্ত বলবত আছে। সবটাই মিথ্যা।

হোয়াটসএপকে যেমন আমরা বিশ্বাস করেছি, করেছিলো গাযার অধিবাসীর। এর চরম মাশুল তাদের দিতে হয়েছে।৭ই অক্টোবর পরবর্তী গাযা হত্যাকান্ডে ইজরায়েল মূলত AI জেনেরেটেড পদ্ধতিতে খুবই কিউট নামের এক বিশেষ সফটও্যারের মাধ্যমে হামাসের যোদ্ধাদের টার্গেট করে হত্যা মিশন পরিচালনা করে যার নাম ল্যাভেন্ডার, যার ইজরাঈলী কোড নাম অবশ্য হোয়ার ইজ ড্যাডি। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই সফটওয়্যার তার তথ্য সংগ্রহ করেছে ব্যবহারকারীর সকল নিরাপদ রাখার কথা দেয়া হোয়াটসএপ গ্রুপ ডেটা থেকে, অর্থাৎ, হামাসের কোন সদস্য যদি কোন হোয়াটসএপ গ্রুপে থাকে সেই গ্রুপের সমস্ত সদস্যকেও এই সফটওয়্যার হত্যার টার্গেট মিশনে অন্তর্ভূক্ত করেছে।

গাই রোজেন

ল্যাভেন্ডার তৈরী এবং এর পরিচালনার কাজ করে ইজরাঈলী মিলিটারি ইউনিট-৮২০০ যে প্রজেক্টের সাথে যুক্ত ছিলেন ইজরায়েলের তেল আবিবে বসবাসকারী Guy Rosen যে কিনা একই সাথে মেটার চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসারও। জায়নাবাদ বিপক্ষ সকল তথ্য মেটাতে ফিল্টার হবার প্রধান কারিগরও এই গাই রোজেন।

ইন্সটাগ্রামের প্রধান এডাম মোজেরি একজন ইজরাইল-আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক এবং জায়নাবাদী ইহুদি। মজার ব্যপার হলো, উইকিপিডিয়া এবং সর্বত্র মোজেরির জন্মস্থান আমেরিকা দেখালেও এক টুইটে সে নিজেই জানায়, তার জন্ম ইজরায়েলের বেথে (Beth)। ইন্সটাগ্রামের ফিডে সংবাদ দেখানো কমিয়ে দেয়া এবং রাজনৈতিক সংবাদ দেখতে চাইলে সেটিংসে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার অপশনের শয়তানি বুদ্ধি এই মোজেরির।

মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ আমেরিকান ইহুদী যে ইজরাইলী জায়নাবাদী স্বচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠান কুখ্যাত যাকাকে (Zaka) মোটা অংকের অনুদান দিয়ে থাকে যারা কিনা ৭ই অক্টোবরের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আনা গণ ধর্ষন ,৪০ মাথা কাটা বাচ্চা, ওভেনে বেক করা বাচ্চার মত প্রপাগান্ডার জনক এবং যে প্রপাপগান্ডা এখন পর্যন্ত ইজরায়েলের পক্ষে এই গণহত্যার বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরা ও টিআরটির(TRT) ৭ই অক্টোবর নিয়ে করা বিশদ ডকুমেন্টারিতে ৭ই অক্টোবর বিনির্মানে যাকার অপবাদানের বিস্তারিত আছে। বিকল্পঃ টেলিগ্রাম, সিগন্যাল

ভাইবারঃ ইসরায়েলী কুখ্যাত দখলদার সামরিক বাহিনী তথা IDF এ কর্মরত দুই বন্ধুর উদ্যোগ,সদর দপ্তর তেল আবি। এই প্রতিষ্ঠানের আরেক পন্য আইওএসের ফাইল শেয়ারিং ক্লাউড iMesh.

গুগল ও ইউটিউবঃ মেটার মতই জায়নাবাদী গুগল ও ইউটিউব । গুগলের প্রতিষ্ঠাটা সের্গেই বিন একজন ইহুদী। ইউটিউবে আপনি ইজরায়েলের বিপক্ষে কিছু লিখতে পারবেন না। সরাসরি ব্যান, আমি মোট সাতবার বিভিন্ন মেয়াদে ব্যান খেয়ে চিরতরে ইউটিউব বয়কট করেছি। গুগল ইজরায়েলকে তার দখলদার সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চতর ক্লাউড সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং ইজরায়েলের সাথে যৌথভাবে এবং খোলাখুলিভাবে ১.২ বিলিয়নের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য ও প্রতিরক্ষা সেবা দিতে চুক্তিবদ্ধ। মজার ব্যপার হলো, আমেরিকার সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে গুগলে কর্মরত কোন কর্মচারী গুগুলের এই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোন প্রশ্ন করতে পারে, তাহলে তৃতীয় বিশ্বের কোম্পানির মত তৎক্ষণাৎ তারা চাকরিচ্যুত হয়। বিকল্প সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে আমি DuckDuck Go ব্যবহার করি, গুগলের মত এত আরামদায়ক না হলেও, বয়কট মোটেও কোন আরামদায়ক বিষয় নয় বরং কষ্টকর ও কৃচ্ছতার বিষয়।

Fiverr: সদরদপ্তর তেল-আবিব,ইসরাঈল এবং এর সিইও মিশা কফম্যান একজন উগ্র ও প্রকাশ্য জায়নাবাদী, IDF এ অর্থলগ্নিকারী।অক্টোবর ১০ তারিখে মিশা এক টুইটারে IDF এ তার অনুদান দিগুন করার ঘোষনা দেন।

This image has an empty alt attribute; its file name is fiverr-1.jpg

ফিভারে একজন ক্লায়েন্ট যত টাকার কাজ করে, ফিভার তার ২০% কেটে নেয় ।এর সহজ বিকল্প; UpworkFreelancer

Lo’real: মধ্য ৮০র দশক থেকেই ইসরাইলে ব্যবসায় কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও প্রথম ১৯৯৪ সালে ইসরাইলী প্রসাধন কোম্পানি ইন্টার বিউটির ৩০ শতাংশ শেয়ার,৭ মিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দ্যশ্যে যাত্রা শুরু করে ফরাসী ব্যবসায় দৈত্য লরিয়ে্লের সহায়ক শাখা; লরিয়েল-ইসরাইল। ৯০র দশকে ৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছিলো বিশাল আর ইসরায়েলের ইমেজের জন্য বিপুল।যেহেতু, বিনিয়োগ থেকে লাভ নয় বরং ইসরায়েলকে সহায়তা করাই উদ্দ্যেশ্য তাই বাহির থেকে সিইও না এনে কোম্পানির প্রধান রাখা হয় কিনে নেয়া কোম্পানির তৎকালীন গড প্রপারকেই(Gad Propper)। প্রথম কারখানা স্থাপিত হয় মিগডাল হ্যামেক নামে এক ফিলিস্তিনি দখলকৃত গ্রামে,যার পূর্ব নাম মুজায়দিল।গ্রামটি ভীষণ বর্ণবাদী, ইসরাইলে এখনো অনেক মুসলমান-খ্রিস্টান ফিলিস্তিনি বসবাস করে কিন্তু তাড়িয়ে দেয়া মূল অধিবাসীরা তো দুরস্ত, এই গ্রামে কোন অ-ইহুদী, ফিলিস্তিনি জমি কিনতে,ভাড়া থাকতে, ও বসবাস করতে পারেনা। প্রতিষ্ঠার বছরখানেক পরেই ১৯৯৮ সালে ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন ও অর্থনীতিতে অবদানের জন্য জুবিলি পদক দেয়া হয়,যা কিনা ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক।

লরিয়েল ২০০৮ সালে, ১ লক্ষ ইউএস ডলার লাইফটাইম ইনভেস্টমেন্ট এওয়ার্ড হিসেবে ও্য়েইজম্যান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সকে প্রদান করে, যে ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরাইলি মিলিটারীর হয়ে গোপন আনবিক,রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে লরিয়েলের সমস্ত উৎপাদন-রপ্তানির মূল কেন্দ্র Loreal Israel, বর্তমানে ১,১০০ কর্মী বাহিনী ও ৮৫০০ বিক্রয় কেন্দ্র নিয়ে ইসরায়েলের ১ নং প্রসাধনী কোম্পানি, মোট বিক্রির পরিমান প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার।এখানের ডেড সী থেকে তৈরিকৃত ‘Natural Sea Beauty’ ব্র্যন্ডের অধীনে অনন্য পণ্য বিশ্বের ২২টি দেশে রপ্তানি করে, যে লুত সাগর ভূমির মতই ফিলিস্তিনিদের থেকে পুরোপুরি ছিনতাইকৃত এবং বর্তমানে ইসরায়েলের পর্যটন,শিল্প,খনিজ সম্পদের অন্যতম উৎস।

This image has an empty alt attribute; its file name is seabeauty1.jpg
ন্যাচারাল সি বিউটি,লরিয়েল ইজরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ল’রিয়েলের পণ্য রপ্তানি হয় এই ইসরায়েল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে না হয় ইসরায়েল থেকে রপ্তানি হয় কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায়- নিউজিল্যান্ডে কেন?লরিয়েল ইসরায়েলের প্রধান এই কোম্পানির প্রধান থাকার পাশাপাশি ইসরায়েল-ইইউ চেম্বার অব কমার্সের প্রধানও ছিলেন।তার কার্যকরী লবিঙয়ের ফল অস্ট্রেলিয়ায়-নিউজিল্যান্ডে ইসরাইলের এই নতুন রপ্তানি পথ।প্রসাধনী ব্র্যন্ডের বাহিরে লরিয়েল ইসরাইল লিমিটেড বর্তমানে এক বিরাট কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যার অধীনে রয়েছে ১২৫৭টি প্রতিষ্ঠান ।ল’রিয়েল প্যারিসের হয়ে তার অবদানের জন্য গড প্রপার ২০০৮ সালে ফ্রান্সের সর্বচ্চো পদক লিজিওন ডি অনার পদকে ভুষিত হন,তিনি ব্রিটেনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্ডার অব ব্রিটিশ এম্পায়ার (OBE) পদকপ্রাপ্ত।

ল’রিয়েলের হয়ে ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করার জন্য পুরস্কৃত করা হয় সেখানে বিপক্ষে বললেই মিলে বহিষ্কার। জানুয়ারী ২০১৮ সালে লরিয়েল প্যারিস ইউকে বিউটি ব্লগার আমেনা খাতুনকে তাদের হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড এলভাইভের (Elvive) প্রমোশনের জন্য ভাড়া করে, হিজাবী বিউটি ব্লগারকে হেয়ার লাইনের জন্য ভাড়া করায় বিষয়টি বেশ প্রশংসিতও হয় কিন্ত মাত্র দু-সপ্তাহের মাথায় তাকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এক টুইটের জন্য তাকে সরাসরি বরখাস্ত করে।

  • আমেনা খান

ল’রিয়েল প্যারিস ইউকের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যন্ড বডিশপের স্লোগান হচ্ছে যে,তারা সবস্ময় সামাজিক অবিচার ও মানবাধিকার রক্ষার প্রচারক কিন্তু ইসরায়েলের বেলায় তাদের কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অন্যায়ের সহায়ক।

লরিয়েলের বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ডের নাম, Body shop, Garnier, Maybelline New york.

Cococola, ম্যকডোনাল্ড ও স্টারবাকস হলো বয়কট আন্দোলনের হোলি ট্রিনিটি। এরা এত বেশী বনেদী জায়নাবাদী এবং এদের বিপরীতে অসংখ্য ভালো বিকল্প থাকায় এই তিন পাপীকে চোখ বন্ধ করে বয়কট করে ফেলুন। এটি সত্য যে ,অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানির মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে কোকোকোলা এক খ্রিস্টান ফিলিস্তিনির উদ্যোগে ২০১৪ সালে ২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে  পশ্চিম তীরের রামাল্লা ও গাযায় নিজেদের প্ল্যান্ট খুলে যাতে কিছু ফিলিস্তিনিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।এমনকি ২০১৫ সালে ফিলিস্তিন অংশের কোকোকোলার সিইও বয়কট ইসরায়েলের পক্ষে প্রকাশ্যে তার সমর্থন প্রদান করে। কিন্তু, তাতে কোকোকোলার পাপ কমে না। কোকোকোলা প্রথম বড় আমেরিকান শিল্প হিসেবে দখলকৃত ফিলিস্তিনে তাদের কোম্পানি খুলে, এর প্রতিবাদে, আরবলীগ ১৯৬৬ সালে সমস্ত আরব দেশগুলোতে কোক নিষিদ্ধ করে। এটি ছিলো ইতিহাসে প্রথম বয়কটের ঘটনা। এত বড় ঘটনার পরও কোকোকোলা অব্যাহতভাবে ইজরায়েলে তাদের উতপাদন চালু রাখে। আরবরা যতদিন জাতীয়তাবাদী ছিলো কোকের উপর এই নিষেধাজ্ঞা বলবত ছিলো। কিন্তু, ধীরে ধীরে নানা রাজনীতি, হত্যা ক্যুর মাধ্যমে আরব নেতারা পূর্ণ জায়নাবাদীতে পরিবর্তীত হয়ে ১৯৯৭ সালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। একই বছর ইজরায়েলের সরকার আরব লীগের বিপক্ষে যেয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর অব্যাহত ইজরায়েলকে অর্থনৈতিক সহায়তা করার জন্য ইজরায়েল বানিজ্য পদক প্রদান করে। জাতিসংঘ ২০২০ সালের মানবাধিকার লংঘনের দায়ে কালো তালিকায় কোকের নাম অন্তর্ভূক্ত ছিলো।

আল নুসাইরাত ক্যাম্প হত্যাকান্ডের পর উদ্ধারকৃত IDF সৈন্য নোয়ার তার বাবার সাথে উদযাপন

কোকোকোলার ইজরায়েল তোষণ-প্রতিপালন তালিকা এত দীর্ঘ যে এটি নিয়ে আলাদা লেখা লিখতে হবে। অন্তর্জালে এসবই পাওয়া যায়। যার খুশী সে পড়ে নিতে পারে। আর যারা বলেন, কোকোকোলা আমেরিকান পন্য বটে, তবে উতপাদিত হয় বাংলাদেশে, তারা জানেন না, প্রতিটি বিক্রিত কোকের একটি অংশ ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অংশ হিসেবে অনেক হাত ঘুরে হলেও কোকের জায়নাবাদী মালিকের হাতেই পৌছে।

স্টারবাক্সের প্রধান হাওয়ার্ড শুলজ (Howard Schultz)একজন জায়নাবাদী ইহুদী। ম্যকডোনাল্ড ফ্রিতে দখলদার সৈন্যদের খাবার সরবারহ করত।

Pepsi: পেপসির পূর্ণরুপ পেপসি কেনার প্রতিটি পয়সা ইসরায়েলের জন্য খরচ করুন (PEPSI-Pay each penny to Save Israel) বলে একটি কথা প্রচলিত,যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত করা গেলেও এটিকেও চোখ বন্ধ করে বয়কট করুন।

কোকাকোলার মতই ইসরায়েলের আরেক জনপ্রিয় পানীয় তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড সোডা স্ট্রিম, হলিউডের ইহুদী এবং জায়নাবাদী অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন একসময় এর মুখপাত্র ছিলেন ।BDS মুভমেন্টের অব্যাহত প্রচারে ইসরায়েলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড সোডা স্ট্রিম ২০১৫ সালে দখলকৃত পশ্চিম তীরে তাদের ফ্যক্টরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়, বিডিএস আন্দোলনকারীরা যখন এই অর্জন উদযাপন করছিলো তখনই এগিয়ে আসে Pepsico (পেপসিকো) এবং ৩.২ বিলিয়ন ডলারে সোডা স্ট্রিম কোম্পানি কিনে নিয়ে তাৎক্ষনিক কোম্পানিটিকে বাঁচিয়ে দেয়। সাবরা (Sabra) ব্র্যন্ডের নামে ফাস্টফুডও তাদের। আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহজেই এই পণ্য এড়িয়ে যেতে পারেন।

সোডা স্ট্রিমের বিজ্ঞাপনে হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন

এছাড়াও বয়কট তালিকায় রয়েছে প্রক্টর ও গ্যম্বল, ইউনি লিভার,রেকিট এন্ড বেনকিজার, লেইস, ক্যাডবেরি চকোলেট, বাউন্টি চকোলেট, কিটক্যাট, নেসলে।

কোন পন্য কেনার আগে পন্যটি ইজরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা জানতে ব্যবহার করুন, No Thanks নামের এপটি। এপটি একজন প্রবাসী ফিলিস্তিনির তৈরী যিনি তাঁর এক ভাই ও বোনকে ইজরাইলীদের হাতে হারিয়েছেন।

পশ্চিমসহ সারা বিশ্বের অসংখ্য সংবেদনশীল মানুষ এই বয়কটের সমর্থক,নিয়মিত এই পন্যসমূহ এড়িয়ে চলেন কারন ফিলিস্তিন গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুসলনমানদের একক কোন বিষয় নয় বরং মানুষ হিসেবে প্ররিচয় দেবার অন্যতম নিয়ামক। আপনার একটি পণ্য বর্জন হয়তো বাঁচিয়ে দিবে কোন ফিলিস্তিনি বা ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ করে যাওয়া কর্মীর। 

কোরবানি: ইসলাম বনাম নাস্তিকতা যুদ্ধ

 প্রতিবছর কুরবানীর সময় অনলাইনে পশুপ্রেমীদের আহাজারি শুরু হয়,যাদের একটা বড় অংশ ইসলাম ধর্ম অনুসারি নন।সারাবছরই যখন নানাকারনে পশু হত্যা চলতে থাকে তখন শুধুমাত্র কোরবানি ঈদের সময়ই এই রব তোলায় তারা তুমুল সমালোচিতও হন,শুরু হয়ে যায় নাস্তিক বনাম বিশ্বাসী সাইবার যুদ্ধ।কিন্তু একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমি নিজেও কোরবানি নিয়ে বিচলিত হই, কেন হই তা নিয়ে এই লেখা।

কোরবানি একটি ইবাদত,সামর্থ্যবানদের জন্য ওয়াজিব। কিন্তু বাংলাদেশে কোরবানি যতটা ইবাদত তার চেয়েও বেশী ব্যবসা,শতকোটি টাকার ব্যবসা। কিন্তু অন্যান্য ব্যবসায়ের সাথে এর পার্থক্য হলো এই ব্যবসার মূল পন্য প্রানীরা অর্থাৎ এমন কিছু যার প্রাণ আছে, যে বুঝতে পারে।কোরবানির প্রানীদের প্রতি আমাদের আচরণবিধি নিয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও না ব্যবসায়ী না ক্রেতা কারো যেন তা মানার ভ্রুক্ষেপই নেই,বড় তাড়াহুড়োর ইবাদত।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোরবানি উপলক্ষে গরু পেলে পুষে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বড় করা হয়,গরু মোটাতাজাকারী অসৎ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে বলছি, নির্দিষ্ট সময় পর এদের গরুর ব্যাপারীদের কাছে শহরাঞ্চলের উদ্দ্যেশ্যে বিক্রি করে দেয়া হয়। গরুগুলো বানিজ্যিক ট্রাকে লটে লটে শহরের দিকে যাত্রা শুরু করে,এদেরকে ঠাসাঠাসি করে ট্রাকে তোলা হয়,নাকের ছিদ্র দিয়ে দড়ি ঢুকিয়ে মুখ শক্ত করে আটকে দেয়া হয় রেলিঙয়ের সাথে ,দড়ির দৈর্ঘ্য থাকে ছোট। এই অস্বস্তিকর শারীরিক অবস্থায় শুরু হয় আট-ন ঘন্টা বা তারো বেশী লম্বা সফর। আর পথিমধ্যে তাদের ক্ষুধা, বানিজ্যিক পন্যের আবার ক্ষুধা কী!

ঈদের আগে মহাসড়কগুলোয় থাকে তীব্র যানজট,বিশেষ করে শহরগুলোর ঢোকার মুখে,পথে পথে দালালদের সাথে দফারফার সময়ক্ষেপন,আট ন ঘন্টার যাত্রা বেড়ে কখনো দিন পার হয়ে যায়।

গরু ঘোড়া নয়,সে সারাজীবন দাঁড়িয়ে থাকে না,সে বসে।কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রায় গরুগুলি একবারো বসতে পারেনা,বসতে পারাতো দূরের কথা,ঘাড় নাড়ানোর ন্যুনতম সুযোগও থাকে না। তাদের খাবার জন্য কোন বিরতি দিয়ে সময় বা অর্থের বাড়তি অপচয় করা হয়না।

এক অসহনীয় কষ্টকর যাত্রা শেষে তারা যখন হাটে এসে পৌছায় তখন শুরু হয় কষ্টের দ্বিতীয় ধাপ।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুগুলোকে বাঁশের সমান্তরাল খুঁটিতে নাকে দড়ি দিয়ে মুখ উচুঁ করে এক বিশেষ পদ্ধতিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় যতদিন না বিক্রি হয়ে যায়।এই বিশেষ পদ্ধতিতে দাঁড় করিয়ে রাখলে বিক্রেতাদের কী গরুকে দেখতে বিশেষ সুবিধা হয় কিনা জানা নেই। কিন্তু যেহেতু গরুও একপ্রকার প্রানী তাদেরও শিড়দাড়ায় তীব্র ব্যথ্যা হবার কথা কিন্তু স্রেফ বোবা বলে কিছু বলতে পারেনা, আমরাতো মানুষ,আমাদের অনুভূতি কখন এতটা বোবা হয়ে গেলো। এ ব্যাপারে একটা প্রাসঙ্গিক হাদীস বলি, রাসূল (সাঃ) বলেন 

‘এসব বোবা প্রানীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো,যখন তারা চড়ার মত উপযুক্ত হবে তখন তাদের উপর চড়ো,যখন তাদের বিশ্রামের দরকার হবে বিশ্রাম দাও’। (আবু দাউদ)

দ্রুত বিক্রি হয়ে গেলে এই অমানবিক প্রদর্শনী শেষ হয়ে গেলেও এর পর শুরু হয় আমাদের ইট কাঠের এই অমানবিক শহরে তাদের কষ্টের তৃতীয় ধাপ।

ইউরোপ,আমেরিকার অনুকরনে যে ফ্ল্যাট কালচার আমরা গড়ে তুলেছি তা আমাদের সমাজ-সংস্কারের সাথে বেমানান,এ এমনই অমানবিক সংস্কৃতি যেখানে বাড়িতে অতিথি আসলেও বলে দেয়া হয় অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখতে,ইউরোপ,আমেরিকায় এমন বেয়াদবি মার্কা সাইনবোর্ড কোথাও দেখতে পাবেন না। যেখানে অতিথিদের গাড়ি রাখার জায়গা হয়না সেখানে খড়,গোবরের নোংরাসহ আস্থ গরু একটা আপদ ছাড়া আর কিছু নয়।ফ্ল্যাট কেনার সময় আমরা কখনো কেউ কী ভাবি বছরে একবার কোরবানির মত একটা ওয়াজিব ইবাদত পালন করতে হবে,সে কয়দিন গরুটা,ছাগলটা কোথায় থাকবে,তাকে কোথায় জবাই দেয়া হবে?

যাদের সামর্থ্য নেই তারা অনেকেই হাট থেকে গরু মাইলের পর মাইল হাটিয়ে আনেন,অনেক প্রানীই প্রথমবার শহর দেখে ভড়কে যায়,ছুটে পালাতে চায়,মেরে ধরে এদেরকে সোজা করা হয়। গাড়ী করে আনলেও তার প্রথম যাত্রার কষ্টেরই পুনরাবৃত্তি হয়।এত দীর্ঘ ক্লান্তির পর গ্যারেজের কোনায় কানায় তাদের জায়গা হয়, কখনো হয়ইনা,ফ্ল্যাট সংলগ্ন রাস্তাই সই। কোরাবানির দিন পর্যন্ত গ্যারেজের দরজা টানা আর কয়েকশ গাড়ির বিকট শব্দে তাদের দিন পার হয়।

অথচ কিছুদিন আমাদের গাড়ীগুলো আমরা অন্য কোথাও রাখার ব্যবস্থা করতে পারি বা কোরবানির পশুর জন্য কোন মাঠ, গাড়ীতে খড় বিছিয়ে,দড়িটা পর্যাপ্ত পরিমান লম্বা রেখে যাতে প্রানীটা দাঁড়াতে অথবা বসতে পারে এমন ব্যবস্থা করে আনা যায়, ইবাদতের সাথে জড়িত যে ব্যবসায় তার ব্যাপারে মুসলমানদের কী কিছুই করার নেই ?

গ্রামের কোন গৃহস্থের বা খামারের আদরের গরুটার শহরের অমানবিকতার শেষ ধাপটা রচির হয় স্বয়ং পবিত্র কোরবানির দিনে।কিভাবে দিনের পর দিন আমরা স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অমান্য করে আমরা কোরবানির শো অফ বা মাংস খাওয়ার আয়োজন করি তা বলবো এখন!

ইসলাম মতে জবাইয়ের সময় প্রানীটা থাকবে শান্ত,তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেতে দিতে হবে,তার পেট থাকবে ভর্তি,তাকে পাল থেকে আলাদা করে আদর করে হাত বুলিয়ে নিয়ে আসতে হবে,মানসিকভাবে যতটা সম্ভব আস্বস্থ করতে হবে।তারপর একটা অতি ধারালো ছুড়ি দিয়ে অভ্যস্ত হাতে একটানে,এক প্রচেষ্টায় জগুলার ভেইন কেটে দিতে হবে।

আমাদের প্রানীরা মৃত্যুর আধঘন্টা,একঘন্টা ধরে ভয়ানক ভীতির মধ্য দিয়ে যায়,ভয়ে তাদের চোখ বের হয়ে আসতে চায়,তাদেরকে কষে দড়ি দিয়ে ভালো করে বাঁধা হয়,হাতে বড় ছুরি নিয়ে লোকেরা তাদের সামনে ঘোরাফেরা করে,অনেকে তাদের সামনে ছুরি ধারায়ও। দড়ি দিয়ে বেঁধে,ছুরি এনে তাদেরকে আসলে কী করা হবে সবই তারা টের পায়,রাসূল (সাঃ) বলেন,

তোমরা কি কোন প্রানীকে দুইবার মারতে চাও,একবার তার চোখের সামনে ছুরি ধারিয়ে তো আরেকবার গলা কেটে?” **

এভাবে প্রানীদের মৃত্যুর আগে কয়েক মৃত্যুর কষ্ট দেয়া ,মানসিক কষ্ট দেয়া ইসলামে হারাম,স্রেফ হারাম।

গরুর গলায় দড়ি,চার পা শক্ত করে বেঁধে জবাই আমাদের কুরবানির অতি পরিচিত ছবি ,অথচ এভাবে জবাইয়ের কোন অনুমতি ইসলাম দেয়ইনা।

এমনকি রক্ত বেরিয়ে যাবার আগ পর্যন্ত কোনভাবেই কোন প্রানীকে বাঁধা যাবেনা।

এখন হয়তো বলবেন গরুর চার পা না বেঁধে কিভাবে জবাই দেবো?

একবার এক সাহাবী ভেড়া জবাই করতে যেয়ে মায়া বশত না জবাই করেই চলে আসলেন,এসে রাসূল (সাঃ)কে জবাই না করার কারনটা খুলে বললেন। রাসূল (সাঃ) দুবার তাঁকে বললেন, ‘তুমি আল্লাহর প্রানীর প্রতি দয়া দেখিয়েছো,আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া দেখাবেন’।

জবাই করাও শিখতে হয়,এটা জন্মগত কিছু না।একটানে এক প্রচেষ্টায় প্রানী জবাই করতে হয়, কিন্তু দেখা যায় অনেকে ঈদের দিনই প্রথম জবাই চেষ্টা করতে যান,কোন প্রশিক্ষণ না কিছু না। আমার এক প্রতিবেশী এক বার গরুর গলার তিন জায়গায় তিন পোঁচ দিয়ে গরু জবাই করেছিলেন,বুঝতেই পারছিলেন না,কোথায় পোঁচটা দিবেন,গরুকে শুইয়ে রেখে,তার উপর ডজনখানেক লোক বসিয়ে,দুই জায়গার রক্ত বের করে শলা পরামর্শ করে সিদ্বান্ত নিচ্ছিলেন ঠিক কোথায় কাটতে হবে, সময় লেগেছিলো প্রায় দশ মিনিট,সুবাহানাল্লাহ,এক জীবনে পবিত্র কোরবানির নামে কত বীভৎসতা দেখেছি! ওনেকেই জগুলার ভেইন ও স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনা, স্পাইনাল কর্ড কেটে দিলে প্রানীটার মারাত্নক কষ্ট হয় এবং এটা হারামও। ভুল ধমনী কেটে দিলে ঠিকমত রক্ত বেরিয়ে যাবেনা,মৃত্যু হতে দেরী হয়, প্রানীটা কষ্ট পায়। জবাইয়ের আগে যারা অভিজ্ঞ, যারা জানেন তাদের থেকে একটু জানাশোনা,পড়াশোনা করতে হবে না?

এক প্রানীকে অন্য প্রানীর সামনে কিছুতেই জবাই করা যাবেনা,এটা জবাইয়ের একটা মৌলিক, অবশ্যপূরনীয় শর্ত অথচ শহরের ফ্ল্যাট বাড়ীর গ্যারেজে,শহরের রাস্তায়,গ্রামের মাঠে একটার সামনে আরেকটাকে শুইয়ে দেয়া হয়,শুধু জবাই না,সম্পূর্ণ গরু বানানোও হয় অন্য প্রানীদের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে।

প্রানী অধিকার রক্ষা করার জায়গা ও সময় কিছুই আমাদের নেই, অর্থের গরীব আমরা নই,গরুটা অনেক দাম দিয়েই কেনা হয়, ফ্ল্যাটখানাও দামী,এই দৈন্যতা অন্তরের,ইসলাম না মানতে মানতে অন্তর কঠিন হয়ে যাবার।

নিজেদের অন্তর ইস্পাত কঠিন হয়ে গেছে আমরা এজন্য চিন্তিত না,আমরা আছি জবাইয়ের ছবি ফেসবুকে দিয়ে নাস্তিকদের সাথে যুদ্ধে! এক কোরবানির ঈদ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহমানের সাথে সংহতি জানিয়ে ফিড রক্তের ছবি দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছেন,আমি নাস্তিক নই কিন্তু আমি দেখে কষ্ট পেয়েছি,আমার মত আরো অনেকে কষ্ট পেয়েছে,এটা ইসলাম না।যে বা যারা এভাবে ছবি শেয়ার করেন তারা নিশ্চিত আপনাদের কোরবানিটা আদৌ হয়েছে,এত অহংকার কিসের?

শুধু যে কোরবানির সময় নয় জবাইয়ের এই অন্যায় চলে সারা বছর ধরে,শুধু দেশে না,দুনিয়া জুড়ে।আমরা সারা বছর ধরে যত প্রানীজ মাংস খাই তার ৯৯ শতাংশই চূরান্ত কষ্ট দিয়েই জবাই করা,শহরের সমস্ত দোকান,ভ্যানে এক মুরগীর সামনেই আরেক মুরগী জবাই ও ছিলা হয়,প্রেগন্যান্ট গরু,ছাগল দেদারসে জবাই হয়,আগে পা ভেঙ্গে দিয়ে পরে আরাম করে জবাই করা হয় তবু কোরবানি নিয়েই লিখলাম কেন? ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমি জবাই করতে হয় এমন প্রানীজ আর কিছুই খাই না,হালাল খাবারের উছিলায় আর হারাম জবাই প্রমোট করিনা ।

ইবরাহীম (আঃ)র কলিজার টুকরো ইসমাইল (আঃ)র প্রাণের একটা দুম্বা কোরবানি হয়েছিলো, রাসূল (সাঃ)র পিতা আব্দুল্লাহর প্রাণের বদলে একশ দুম্বা কোরবানি হয়েছিলো, বড় আদরের ব্যক্তিদের বদলে এই অবলা প্রানীগুলো জবাই হয়েছিলো, সেই স্মৃতির সম্মানে,দয়াময় আল্লাহর উদ্দ্যেশ্যে,আ্মার ওয়াজিব ইবাদতের জন্য একটা প্রানী পরিবহন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কত কষ্ট পায় তার কোন দায় কী আমাদের নেই? কোরবানি কেউ নাস্তিক হয়ে গেলে উপহাস করেন কেন, একজন বিশ্বাসীরতো বরং এতে কষ্ট পাওয়ার কথা,আপনারা ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে তুলে ধরতে পারেননি!

তথ্যসূত্রঃ https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5332932/

Did Prophet (sm) marry Khadija (r) for her money?

Lets discuss it with the verses of the Quran, there is a verse in the surah of Ad Duha saying,

‘Did he not find you as an orphan and sheltered you? (verse 6)

Being an orphan Prophet (sm) had been basically sheltered by three, at first his grandfather Abdul Muttalib, uncle Abu talib and then his beloved wife Khadija binte Khuwalid. But for a human being getting sheltered is not everything, a human being needs his own identity, self worth and money. He worked for Abu Tailb but he was still very poor. For the first time he could see some sufficient amount of money of his own only after working for Khadija’s business caravan.

Muhammad even asked the hand of Abu Talib’s daughter for marriage but refused by the later considering him as not a perfect match for his daughter. Muhammad had everything, youth, good looks, a reputed family,notably praiseworthy character, trustworthiness, his trustworthiness even ended up tagging him as Al-Amin (the faithful) yet he dared not to ask the hand of any noble family girl because of his poor financial status. The Prophet had two kinds of constraints ;

1) he didn’t have sufficient moharana (dowry to be paid by the bridegroom) to pay for

2) he was shy enough to try his luck with the other qualities he belonged to

Khadija (r) emerged in his life with the solution of both and changed everything. Khadija herself proposed him and he agreed. Muhammad left Abu Talib’s house to Khadija’s where he got everything; a home, a compassionate companion to live with and financial independence; the True Shelter.

‘And He found you poor and enriched you’ (verse 8)

This verse got two folded interpretations; spiritual and financial. If one focuses on the financial one he will find it directly indicates to khadija (r).

So, there must not be any hesitation among the Muslims to accept the fact where Allah Azja Azwal Himself ensuring that He empowered His most beloved of man through the wealth of a woman. Allah (swt) has created both man & woman and He doesn’t think the petty way feeble human minds and society usually tend to think regarding women.
So, It would be too naive to say he married Khadija only for money , an orphan young 25 years of man also needed of a wife ,a companion and love.
The prophet didn’t make fun with this money rather this couple made a family and was up to something greater that the entire human kind had ever imagined.

After the marriage Khadija didn’t restrain herself only being the financial safeguard for the Prophet (sm) rather she emerged as his sole emotional hermitage too.

khad-1.pngija-1

Taking the advantage of Being Older to the Rasul (sm),she took care of his everything with utmost mother like affection. She gave his children,took care of them,his household,his numerous charity work, listened to his dreams day after day which were the earliest form of revealations (wahi) to him from Allah. And above all, she Believed her man what the prophet most needed to gear up his confidence to be the next prophet.

prophet said,

She had faith in me when people rejected me. She believed in me when the people disbelieved me. She supported me with her wealth when the people prevented me. And Allāh blessed me with children through her and not through any other wife.”

(Musnad Imam Ahmed)

She repeatedly tried to give her man a male heir but by the wish of Allah (swt) none of them could survive. The saddened couple used to console each other.

As he was getting age, he increased his time of meditation at the cave of Hera. He spent the months of Ramadan entirely over there. Khadija cooked the food for him,sent them to the cave, waited anxiously for his beloved to come back like the mother awaits for her child to come back. Sometimes she herself ,in that age, rode up the mountain to see the condition of his beloved.
There is a myth prevails among the Muslims that Khadija entirely have her business after the marriage, now I have question who took care of their business while Prophet (sm) was away,how did the family run?
Fact is,It was also Khadija who ran the business.

She was such a woman of great physical and mental strength!

Can you remember when Prophet got trembled by the sight of the angel Jibraeel, he rushed to only Khadija,not to his clan head or members,not to Abu Talib, not to any powerful man of Mecca but his beloved! He was asking her to wrap up with a blanket and told her everything. Khadija also instantly reassured him saying that ,

“Never! By Allah, Allah will never disgrace you. You keep good relations with your Kith and kin, help the poor and the destitute, serve your guests generously and assist the deserving calamity-afflicted ones.”

When reassured prophet got asleep she rushed to Waraka Ibn Nowfel, as a learned matured woman she knew whom to go and she delivered the good news to her man whom she knew for long to be the next prophet.

She even prayed salah along with her her huband in the yard of Kaaba infront of all the desbelivers putting them in utmost awe.

But one day she died.

The whole world seemed crushed in front of the prophet.

Time went on, he left Mecca, got married several times but one thing remained unchanged! Khadija’s memory engraved deep down his heart forever.

There were seldom any day went by when he didn’t utter her name.

‘A’isha reported: Never did I feel jealous of the wives of Allah’s Apostle (may peace be upon him) but in case of Khadija, although I did no, (have the privilege to) see her. She further added that whenever Allah’s Messenger (may peace be upon him) slaughtered a sheep, he said: Send it to the companions of Khadija I annoyed him one day and said: (It is) Khadija only who always prevails upon your mind. Thereupon Allah’s Messenger (may peace be upon him) said: Her love had been nurtured in my heart by Allah Himself.

Narrated ‘Aisha:
I did not feel jealous of any of the wives of the Prophet as much as I did of Khadija though I did not see her, but the Prophet used to mention her very often, and when ever he slaughtered a sheep, he would cut its parts and send them to the women friends of Khadija. When I sometimes said to him, “(You treat Khadija in such a way) as if there is no woman on earth except Khadija,” he would say, “Khadija was such-and-such, and from her I had children.”Sahih Bukhari 5:58:166 ,

If he heard the voice of Hala (sister of Khadija who has voice similarity to that of Khadija) with a knocking in his house he used to say,’let it be Hala,let it be Hala’, only with the intention to hear her voice.

It was through the love of Khadija (r) and Rasul (sm) that Islam started to bloom.

*Those who are interested in the age debate of Khadija the age of Khadija R

রাসূল (সাঃ) কি পেডোফাইল (paedophile) ছিলেন?

একজন শিশুর বয়সের সীমারেখা কতটুকু তা যুগ ও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়, এখনের যুগ বিবেচনায় নিলেও দেখা যায় আল্লাহর রাসুলের সাথে বিয়ের সময় আয়েশা (রা) শিশু বা শিশু স্থানীয়ই ছিলেন। বিয়ের সময়ে আয়েশা (রাঃ)র বয়স সম্পর্কে মোট তিনটি তথ্য পাওয়া যায় যথা ছয় বছর (বুখারী ও মুসলিম),সাত বছর (মুসলিম ও আবু দাউদ),নয় বছর (ইবনে হিশাম) । হাদীস মতেই বিয়ের দিন তাঁকে দোলনা থেকে ডেকে এনে সাজিয়ে বিয়ে দেয়া হয় যার কী হচ্ছে তিনি কিছুই বুঝছিলেন না!

আয়েশার পাশাপাশি ওই একই বছর রাসূল (সাঃ) বিয়ে করেন বিধবা ও কিছুটা বয়স্ক সাওদা(রাঃ)কে ,বিয়ের সময় যার বয়স ছিলো প্রায় পঞ্চান্ন বছর,আগের সংসারের পাঁচ,ছয় সন্তানের জননী এবং রাসূল(সাঃ)র বয়স ছিলো ৪৯/৫০।

কিন্তু সাওদা ও আয়েশা (রাঃ)র বৈবাহিক জীবন শুরু করার মধ্যে পার্থক্য আছে, সাওদা (রাঃ)র সাথে রাসূল (সাঃ) বিয়ের পরপরই সংসার শুরু করেন কিন্তু আয়েশা (রাঃ)র রাসূলের ঘরে আসেন বিয়ের তিন বছর (কিছু কিছু বর্ননায় তিন বছর পাঁচ মাস বা পাঁচ বছর) পর। এর আগে আয়েশা (রাঃ)র জুবায়ের ইবনে মুতিমের সাথে বিয়ের কথা ছিলো।

“খাদীজা (রাঃ) রাসূল (সাঃ)র মদীনায় হিজরতের তিন বছর আগে মারা যান। তিনি রাসূল (সাঃ) দুই বছর একাকীই থাকেন। তিনি আয়েশা (রাঃ)কে বিয়ে (মূলত বাগদত্তা হন) করেন যখন তাঁর বয়স ছিলো ছয় এবং এই বিয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করে যখন তাঁর বয়স নয়।“ (হিশাম ইবনে উরওয়া (রা.) থেকে বর্নিত,বুখারি, হাদিস : ৩৮৯৬)

এখন পর্যন্ত যতটুকু আলোচনা করলাম তাঁর আলোকে রাসূল (সাঃ) কে বিশ্লেষন করা যাক,

রাসূল (সাঃ) দীর্ঘ ২৫ বছর খাদীজা (রা)র সাথে সংসার করেন, খাদীজার মৃত্যুতে তিনি এতটাই বিষন্ন হন যে হিজরী দশম বছরকে বলা হয় আউস আল হুযন বা বিষন্নতার বছর। খাদীজা (রাঃ) বয়সে তাঁর চেয়ে ১৫ বছরের বেশী বড় ছিলেন,দুই বারের বিধবা ছিলেন অপরপক্ষে রাসূল ছিলেন ২৫ বছরের কুমার  এবং এই দীর্ঘ দাম্পত্য সময়ে তিনি আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি।

কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তা নিয়েও কথা আছে যেমন, তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে খাদীজার সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তি ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু যে পুরুষ পুরো পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের আদর্শ প্রচার করেছেন তিনি শুধুমাত্র এক বয়স্ক নারীর বিপক্ষে যেয়ে বিয়ে করতে ভয় পেতেন তা ভাবা হাস্যকর এবং এমন এক সমাজে,এমন এক সময়ে যখন বহুনারী ভোগ/বিয়ে আমাদের এখনের ডাল-ভাতের মতই স্বাভাবিক ছিলো! আবার তিনি খাদীজার ধন সম্পদ নিয়ে বিলাসী জীবন-যাপন করতেন এমন কিছুও নয়,তাঁদের দাম্পত্যের শেষ দিকে বরং তিনি সব ছেড়ে শহর থেকে দূরে, হেরা গুহায় নির্জনবাস করতেই পছন্দ করতেন।

খাদীজা জীবিত থাকতেই আয়েশা (রাঃ)র সাথে রাসূল (সাঃ)র সাথে দেখা হতো, তিনি প্রায় প্রতিদিনই আবু বকরের বাড়ী যেতেন, তখন তাঁদের দুজনের সাক্ষাতের বিষয়বস্তু ছিলো সবই আয়েশার খেলাধূলা কেন্দ্রিক , আবু বকর ও তাঁর স্ত্রী এত বেশী রাসূল অনুগত ছিলেন যে রাসূল চাইলেই তারা আয়েশাকে তৎক্ষণাৎ দিয়ে দিতেন। রাসূল তা চাননি বরং ওই সময় জুবায়েরের সাথে আয়েশার বিয়ের কথা পাকা হয় এবং রাসূল তা পূর্ণ অবগত ছিলেন। অর্থাৎ, আয়েশার বয়সে ওই সমাজে বিয়ের কথা,বিয়ে খুবই স্বাভাবিক বিষয়ই ছিলো, রাসূলাল্লাহ চাইলে বরং আরো আগে করতে পারতেন।

খাদীজার পর রাসূলের দ্বিতীয় স্ত্রী সাওদা (রাঃ), এবারো নিজের চেয়ে বয়সে বড়,বিধবা,তথাকথিত সমাজের চোখে খুব সুন্দর কেউ না (উনি অনেক লম্বা,মোটা এবং কিছুটা গাঢ় রঙয়ের)কিন্তু রাসূল (সাঃ)ইসলামের প্রতি তাঁর অসামান্য ত্যাগকে বিয়ের মাধ্যমে সম্মানিত করতে চেয়েছিলেন,সুবাহানাল্লাহ। অথচ,খাদীজা নেই , প্রথম সুযোগেই তিনি কুমারী নারী বিয়ে করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। পরপর দুজন বয়স্ক নারী্কে বিয়ে, একজন পেডোফাইলের জন্য খুবই অদ্ভুত,তাইনা!

রাসূলের সাথে আয়েশা (রাঃ)বাগদানের তিন বছর বা তারও কিছু পরে তাঁদের বিয়ে সুসম্পন্ন হয় এবং তাও আয়েশার পিতা মাতার পীড়াপীড়িতে।বাগদানের তিন বছর পেড়িয়ে গেছে,আবু বকরের (রাঃ) পুরো পরিবার তখন মক্কা থেকে হিজরত কোরে মদীনায়।কিন্তু আবহাওয়া বদলজনিত কারনে আবু বকরের পুরো পরিবরেমদীনায় এসে জ্বরে আক্রান্ত হলেন।আয়েশা (রাঃ) পুরো একমাস জ্বরে ভুগে মাথার সমস্ত চুল হারিয়ে ফেলেন,নিজের চুলহীন মাথা বাবাকে দেখিয়ে তিনি প্রায়ই কাঁদতেন।

তাঁর সুস্থ হয়ে উঠতে আরো সাত মাস সময় লাগে। সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর মা আবু বকরকে কন্যাকে রাসূলের ঘরে পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু রাসূলকে বিয়ের কথা বলাতেই তিনি বললেন আয়েশাকে বিয়ে করার জন্য ধার্যকৃত মোহরানার পাঁচশ দিরহাম তার এখন নেই। একথা শুনে আবু বকর তাকে পাঁচশ টাকা দিরহাম ধার চাইলেন আর ওই ধারকৃত টাকা দিয়ে রাসূল ও আয়েশার (রাঃ) বিয়ে সুসম্পন্ন হয়।

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে :

“রসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আমার বাগ্‌দত্তা হয়ে যান যখন আমি ছয় বছরের মেয়ে ছিলাম। আমরা মদিনা গিয়ে বানি হারিস বিন খাযরাজের গৃহে অবস্থান করলাম। অতঃপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং আমার চুল ঝরে পড়ে। পরে চুল আবার গজিয়ে ওঠে। আমি আমার কিছু মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দোলনায় খেলাধুলা করছিলাম, এমন সময় আমার মা উম্মে রুমান আমার কাছে এলেন। আমাকে প্রস্তুত করলেন (বিবাহের জন্য)।…………… অপ্রত্যাশিতভাবে আল্লাহ্‌র নবি (সঃ) আমার নিকট সেদিন পূর্বাহ্নে এলেন এবং আমার মা আমাকে তাঁর হাতে সমর্পণ করলেন। সেই সময় আমি নয় বছরের মেয়ে ছিলেম। ( বুখারি : ৪৭৩৮)

একজন পুরুষ যিনি কিনা শিশুদের প্রতি আগ্রহী তিনি তিন বছর বা তারও বেশী সময় ওই শিশুর প্রতি কোন আগ্রহই প্রকাশ করলেন না।তাঁর শিশু বাগদত্তা অসুস্থ হলেন,চুল হারালেন আর উনি দ্বীন প্রচার নিয়ে ব্যস্ত।তিন বছর পর যখন আবু বকর বিয়ের তাগাদা দিলেন নিরাসক্ত নবী মোহরানার কথা বলে ফিরিয়ে দিলেন, পরে ধারের পীড়াপীড়িতে বিয়ে, অথচ কামাসক্ত হলেতো এত ধৈর্যের বদলে চরম অস্থিরতা প্রকাশ করার কথা।যারা খুব পেডোফাইল বলে বিদ্যা জাহির করেন তারা কিছু পেডোফাইলের কেস ফাইল পড়বেন দয়া করে, দেখবেন এই সৌম্যকান্তি ধৈর্যবান রাসূলের সাথে চরম অস্থিরতায় অপরাধ সংগঠনকারীদের নোংরামির দূরতম সম্পর্কও থাকে কিনা।

এটা এমন এক সমাজ যেখানে কন্যা শিশুর জন্মে পিতা-মাতার মুখ অন্ধকার হয়ে যেতো,কন্যা শিশু জীবন্ত কবর দেয়ার ঘটনাও ছিলো (গণহারে সবাই দিতো না,মূলত কিছু বেদুইনর গোত্রর মধ্যে প্রচলিত ছিলো), কন্যা পাত্রস্থ করা ছিলো পিতা মাতার জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বিষয়। হেজাযের লোকেরা রাসূলকে হেন অপবাদ নেই যা নিয়ে কুৎসা রটাতো না,কিন্তু একটা এমন রেফারেন্স নেই যেখানে তারা মা আয়েশার (রাঃ) সাথে তাঁর বিয়ে নিয়ে কোন কথা আছে, তার মানে এমন বিয়ে ওই সমাজে অতি প্রচলিত ছিলো,মুহাম্মদ নারীলোলুপ এ কথা তার প্রবল শত্ররাও কখনো উচ্চারণ করেনি!।আজকের নব্য নবী বিদ্বেষীরা মক্কার জালিমদেরও অধম, অন্তত তারা এতটা কল্পিত বিষয়ে কুৎসা রটাতো না।

তাছাড়া বাবা মায়ের সম্মতিতে অল্প বয়সে বিয়ে সমস্ত পৃথিবী জুড়েই একযোগে প্রচলিত ছিলো,ইতিহাস দেখুন। এমনকি মরিয়ম (আঃ) তাঁর প্রথম মাসিকের পরই মা হয়েছিলেন,তার মানে উনার বয়সও আয়েশার (রাঃ)কাছাকাছি ছিলো।

অনেককেই দেখি আয়েশা (রাঃ)র সাথে রাসূলের বিয়ের পিছনে কারন দেখান আবু বকরের সাথে তাঁর সম্পর্ক জোড়ালা করা,মানে এই বিয়ে রাজনৈতিক কারনে সম্পাদিত হয়েছিলো। আমি বলবো এই বিয়ে নিয়ে এত হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই,এসব বলে মহান সাহাবী আবু বকর (রাঃ)কেও ছোট করা হয়। এই বিয়ের সাথে আবু বকর (রাঃ)র রাসূলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। একটা ঘটনা বলি, রাসূল (সাঃ) মেরাজ ভ্রমণ করে এসেছেন,আবু বকর তখন মদীনার বাইরে ছিলেন।পুরো মক্কা জুড়ে অবিশ্বাস,এও সম্ভব,এক রাতেই জেরুযালেম থেকে মদীনা। আবু বকরকে মদীনায় প্রবেশ করতে দেখেই লোকেরা তাঁর কাছে অবিশ্বাসের সুরে রাসূলের মেরাজের কাহিনী বলতে লাগলো।আবু বকর শুধু বললেন,’এ কথা রাসূল বলেছে?’ লেকেরা বলল ,’হ্যাঁ’। আবু বকর বললেন,’তবে আমি তাই বিশ্বাস করলাম’। এই কারনেই তার উপাধি ‘সিদ্দিক’, যিনি সত্যায়ন করেন,কন্যার জামাতা হওয়ার সাথে এই অসাধারণ বিশ্বাসের,ভালোবাসার সংযোগ করা যায় না।

বরং দৃঢ় বিশ্বাসে মুহাম্মদ বইয়ের লেখিকা ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের মত করে বলুন প্রভু যদি চান তাঁর বার্তাবাহকের জন্য অধিক স্ত্রী,কমবয়সী স্ত্রীর ব্যবস্থা করবেন তাতে কার কী,এটা তাঁর দুনিয়া, উনি তার নবীর জন্য করতেই পারেন,ব্যাস কথা শেষ!

রাসূল (সাঃ)র নয়টি বিয়ের একটি ছাড়া বাকী সবগুলো বিয়েই ছিলো বিধবা,তালাকপ্রাপ্তা বা বয়স্ক মহিলার সাথে, পেডোফাইল হবার কী নমুনা! খাদীজা (রাঃ)র মৃত্যুর বহু বছর পরও আয়েশা (রাঃ)র সামনে তিনি তাঁর কথা পুনঃ পুনঃ স্মরণ করতেন, তাঁর কবর জিয়ারত করতেন, খাদীজার গলার আওয়াজের সাদৃশ্যপূর্ণ তাঁর বড় বোনের স্বর শুনলে চঞ্চল হয়ে উঠতেন, বাড়ীতে আয়েশার সামনেই তাঁকে যথা সম্ভব আদর সমাদর করতেন।অনেকেই বলেন ইসলামের প্রথম প্রেম নাকি আয়েশা (রাঃ) ও রাসূল (সাঃ),কিন্তু আমার কাছে খাদীজা ও রাসূল (সাঃ)।এত পারস্পারিক শ্রদ্ধা,স্নেহ,দায়িত্ববোধ এত প্রতিকূল সময়ে,এতটা বয়স ও আর্থিক পার্থক্যে যা অনন্যসাধারন! একজন শিশুর প্রতি কামাসক্ত লোকের জন্য ব্যপারটা বড় বেশী অদ্ভুত হয়ে যায় না!

শুধু যে পেডোফাইল তাই নয়, বয়সের অভিযোগ তুলে রাসূল (সাঃ) মা আয়েশা (রা)কে ধর্ষনের অভিযোগও আনা হয় (আস্তাগফিরুল্লাহ)।

আয়েশা (রাঃ) সারাজীবনইতো নয় বছরের ছিলেন না, উনি দীর্ঘ সময় রাসূলের সাথে ছিলেন,পছন্দ না করলে বলার সুযোগ ছিলো এবং তাতে সরাসরি বিয়ে বাতিল হয়ে যেতো। উলটো হাদীস জুড়ে উনাদের খুনসুটি,একসাথে খাওয়া,ইবাদত, খেলাধুলো,ভালোবাসা,খাদীজা (রাঃ)প্রতি তাঁর ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশই পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে আমার খুব প্রিয় একটা হাদীস বলি,

‘আমি অন্য কোন স্ত্রীর জন্য এতটা ঈর্ষা অনুভব করিনি যতটা খাদীজা (রাঃ)র জন্য করতাম যদিও আমি তাঁকে কখনো দেখিনি কিন্তু রাসূল (সাঃ)প্রায়ই তাঁর কথা বলতেন,এবং যখন তিনি কোন ভেড়া জবেহ করতেন,তিনি এটাকে টুকরো টুকরো করে খাদীজার বান্ধবীদের কাছে পাঠাতেন। মাঝেমাঝে যখন আমি তাঁকে বলতাম,(যে আপনি এমন ভাবে খাদীজাকে স্মরণ করেন) ‘যেন দুনিয়ায় আর কোন নারী নেই খাদীজা ছাড়া’ তখন তিনি বলতেন ‘খাদীজা ছিলো এমন এমন আর তাঁর থেকে আমি সন্তান পেয়েছি।‘ (আনসার অধ্যায়,বুখারী)

(এখানে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করুন আর তা হলো আয়েশা (রা)র মহত্ত্ব ও বড়ত্ব, রাসূলের খাদীজার প্রতি ভালোবাসার সবটুকুই আমরা জানতে পারি তাঁর মাধ্যমে, তাঁর বয়ানে, খাদিজা (রাঃ)কে রাসূল কতটা ভালোবাসতেন তা আয়েশা (রাঃ) না জানালে আমাদের পক্ষে অন্তত জানা সম্ভব হত না! নিজেকে ছোট করার সুযোগ রেখেই অবলীলায় সত্য বলে গেছেন,সুবাহানাল্লাহ)

অন্য আরেক হাদীসে আমরা দেখি আয়েশা রাসূল (সাঃ)কে খাদীজা (রাঃ)র জায়গায় আল্লাহ তাঁকে তাঁর মত কুমারী,অল্প বয়সী নারীর সাথে বিয়ের কথা রাসূলকে স্মরণ করিয়ে দিতে,

‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন সারাদিন খাদীজার কথা স্মরণ করেন? আল্লাহ কী তাঁর বদলে আপনাকে উত্তম নারী দেননি।’

বুঝতে অসুবিধা নেই,এখানে উত্তম বলতে উনার কম বয়স,সৌন্দর্য্যকে ইংগিত করেছেন কারন রাসূল (সাঃ)র অন্যান্য স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র তাঁরই বয়স কম এবং একমাত্র তিনিই কুমারী ছিলেন এবং এজন্য তিনি বিশেষ গর্ব বোধ করতেন, অফসোস নয়। আয়েশা (রাঃ)র উপর যখন সতিত্বের অপবাদ আরোপ করা হলো তিনি বারবার বলেছেন,সারা দুনিয়া ভুল বুঝোক কষ্ট নেই কিন্তু রাসূল ভুল বুঝেছেন এই কষ্টে উনি মুষড়ে পরেছিলেন,শয্যাশায়ী হয়েছেন। কই একবারোতো বলেননি এই সুযোগ, উনাকে ছেড়ে যাই!

রাসূল (সাঃ) যখন অভিমান করে একমাস স্ত্রীদের থেকে দূরে ছিলেন ,আয়েশা (রাঃ) প্রতিদিনের হিসেব রাখতেন, এই একমাস কবে ফুরোবে,কবে আবার দেখা হবে। রাসূল (সাঃ)কে পেতে চেয়ে রাসূলের  স্ত্রীদের মধ্যে যে দুইভাগ হয়েছিলো তাঁর একভাগে ছিলেন আয়েশা, রাসূলের প্রতি নিজের অধিকার, ভালোবাসায় এতটুকু ছাড় দেননি।

আচ্ছা মেনে নিচ্ছি, রাসূল বেঁচে থাকতে উনি ভয়ে কিছু বলেননি কিন্তু উনার মৃত্যুর পর ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন, রাসূলের কবরের সাথে লাগোয়া বাড়িতে বসবাস করেছেন ( উনার সাহসের নমুনা দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়, স্বামীর কবরস্থানের এতটা কাছে উনি থাকতেন), এতটা দীর্ঘ সময়ে তিনি চাইলেই তাঁর সাথে কৃত অন্যায়ের কথা বলতে পারতেন।চাইলে বিয়েও করতে পারতেন কিন্ত তা নয় বরং এত অল্প বয়সে ( মাত্র আঠারো বছর) উম্মতের মা এই পরিচয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন।

আয়েশা (রাঃ) মোটেও লাজুক গোছের মহিলা ছিলেন না,স্মৃতিশক্তি ছিলো প্রখর,আবু হোরায়রার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হাদীস বর্ণনাকারী,এমনকি নির্দ্ধিধায় রাসূলের সাথে তার একান্ত দাম্পত্যজনিত ব্যক্তিগত বিষয়ও পুরুষ সাহাবীদের সামনে অবলীলায় বলে গেছেন কিন্তু রাসূল তাঁর সাথে অন্যায় করেছেন তা বলে যাবার সুযোগ পাননি এই যুক্তির উৎস কি?

শুধু যে তিনি হাদীস বর্ণনা/শিক্ষা দিতেন, শুধু যে এ যাবতকালের সেরা কয়েকজন ফক্কীহের শিক্ষকই ছিলেন তা নয় কবিতা,রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়েও তিনি সরব ছিলেন,তিনি চার খলিফার নিয়মিত খবরাখবর রাখতেন, জঙ্গে জামালের যুদ্ধে ময়দানে তাঁর উট সরানো না পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো যায়নি,যিনি পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু খাটিয়ে ইতিকাফ করতেন, হাতে বর্শা রাখতেন এই অসামান্য ব্যক্তিত্বকে ইচ্ছাকৃত বা অজ্ঞানপ্রসূত হয়ে (এটাই হবে,একদন পড়াশোনা করে,অল্প শুনে সেটাই ছড়ায়) অবলা,দুর্বল, অত্যাচারিত (ভিকটিম) নারী দেখিয়ে নবী বিদ্বেষীরা নবীর কুৎসা রটনা করে!

যাকে নিয়ে এত রটনা সেই আয়েশা (রাঃ) যেখানে কিছু বলেননি,রাসূলের বাকী আট স্ত্রী যখন কিছু বলেননি, কিছু লোক তাঁর হয়ে, এত বছর পর, গায়ে পরে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেইনি তবু জোর করে প্রমান করে পুরুষটিকে ফাঁসিয়ে দেয়া অনেক পুরনো গ্রাম্য ছোটলোকী চাল, যুগ বদলেছে , এসব প্রশ্ন তুলতে একটু পড়াশোনা ,যুক্তি গঠন শেখা ও  অন্যেকে সম্মান দিতে শেখাটা জরুরী।

পাদটীকা *[আয়েশা (রাঃ)র বয়স নিয়ে বিস্তর লেখালেখি আছে!সাধারনত যারা হাদীসশাস্ত্র নিয়ে পড়াশনা করেন তারা বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসসমুহের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন না কেননা এগুলো বহু বছর ধরে বহু গবেষণার দ্বারা মানোত্তীর্ণ। লেখিকা ব্যক্তিগতভাবে ইসলামের দ্বিধাদ্বন্দিত বিষয় নিয়ে মরহুম খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাংগীর (রাহিঃ)হুজুরকে অনুসরন করে থাকি,তিনি নিজেও বুখারী,মুসলিমের হাদীসের সনদের মান নিয়ে কথা বলাকে অপ্রয়োজনীয় বোধ করতেন।

তবে আমাদের মনে রাখতে হবে একমাত্র কোরআন ছাড়া কিছুই অকাট্য নয়,কিছু হাদীসের সনদের রাবীদের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে তবে এটা যারা হাদীস শ্রাস্তের গবেষক আছেন তারাই বের করবেন,তারাই ঘোষনা করবেন,সকল আলোচনা-সমালোচনা ,গবেষণা স্বাগতম, কিন্তু আমি আমার লেখা আয়েশা (রা) বয়স বুখারী ও মুসলিমের হাদীসের উপর ভিত্তি করেই লিখেছি।]

*ক্যাম্ব্রিজ ইংরেজি অভিধান মতে পেডোফাইল বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তি যে ছোট শিশুদের প্রতি কামাসক্ত!

এক প্রভু বনাম বিতারিত শয়তানের ইতিহাস পর্ব ২

ব্রহ্মাস্ত্রঃ সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নামে একটি ছবি,যে ছবিতে দেখানো হবে এক সাধারন ছেলে যে হঠাত করে নিজের মধ্যে এক সুপার পাওয়ারের অস্তিত্ব আবিস্কার করে আর যার সাহায্যে অন্যায় দমন করে,এই সুপার পাওয়ারটাই হলো ব্রহ্মাস্ত্র।ভারতে এখন নব্য হিন্দুত্ববাদীতার যুগ, সেই হাওয়ায় গা লাগিয়ে বলিউডও এখন প্রায়ই এমন টপিকে ছবি নির্মান করে।
ব্রহ্মাস্ত্র মানে দেবতা ব্রহ্মার অস্ত্র,কিন্তু এটা ঠিক কীভাবে কাজ করে জানতাম না।একদিন হিস্ট্রি চ্যানেলে ভারতের অন্যতম আশ্চর্য স্থাপনা কৈলাস দূর্গের নির্মান কৌশল দেখছিলাম, যথারীতি ভারতীয় গবেষকগন বলেই যাচ্ছেন এই স্থাপনা নির্মানে এলিয়েনদের অবদানের কথা। মন্দিরটা মাটি থেকে সরাসরি আস্ত এক বিশাল পাথর খুদে বানানো,এতে কোন কিছু জোড়া লাগানো হয়নি,কোন আলগা পাথর বা পিলার কিচ্ছু নেই।একটা দুটো মন্দির না,একটা বিশাল কম্পাউন্ড জুড়ে অনেকগুলো অত্যাশ্চর্য সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত মন্দির। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো এত এত পাথর কাটা হলো কোথাও এতটুকু পাথর নেই, এত এত ভারী পাথর বয়ে নিয়ে যাবার,ডাম্পিং করার কোন চিহ্নই নেই। এত পাথর কই গেলো কিংবা কী যন্ত্র দিয়েই বা পাথুরে পাহাড়গুলো এত নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছিলো।

পাথুরে পাহাড় কেটে বানানো কৈলাস মন্দির

হিস্ট্রি চ্যানেলের সেই ডকুমেন্টেই এক ভারতীয় গবেষক বললেন এই মন্দির নির্মানে ব্রহ্মাস্ত্রের কথা। তাঁর মতে ব্রহ্মাস্ত্র এমন এক অস্ত্র যা বাতাসের তৈরী,যা বাতাসের শক্তি দিয়ে নিখুঁতাকারে কাটে এবং বাকী বস্তু বাতাসে ক্ষুদ্র অনুকনা হয়ে উড়ে যায় বা মিশে যায়।

বহুদিন আগে ঠিক এমনই এক ইউটিউব ভিডিওতে পিরামিড বানানোর কৌশলের কথা শুনছিলাম।ভিডিওটা এক আমেরিকান খ্রিস্টান ভাইয়ের বানানো,না সেকুলার খ্রিস্টান না, খাঁটি খ্রিস্টান। কথাবার্তার ধরন অনেকটা মুসলমানদের মতই।খুব সুন্দর একটা কথা শুনেছিলাম তার থেকে, যে আপনারা মিশরে বেড়াতে গেলে ওখানকার ফারাওদের জিনিস কেন কিনেন,কেন এগুলো নিজেদের ঘরে,ড্রইং রুমে সাজিয়ে রাখেন,এগুলো সরাসরি গডের প্রতিদ্বন্দীর জিনিস,একেবারেই মুসলিমদের মত তৌহিদী চিন্তা।

তো তারপর সে বললো পিরামিদের এই ব্লকগুলো নিঁখুতভাবে কাটা হয়েছিলো বাতাসের সাহায্যে।তখন থেকেই এই বিষয়টা আমার মাথায় ছিলো,পরে যখন ভারতীয় গবেষকও বললেন প্রাচীন ভারতীয় পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী ব্রাহ্মাস্ত্র মানেও বাতাসের শক্তির সাহায্যে কাজ করা অস্ত্র।এর আগে ব্রহ্মাস্ত্র বলতে ধনুকের মত কোন অস্ত্র ভাবলেও দেখলাম প্রাচীন বই পুস্তকে ব্রহ্মাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট কোন ছবি নেই তাই এটা ধনুক ছাড়া অন্য প্রকারেরও হতে পারে।

FB_IMG_16119220776052499

ছবিঃ পিরামিড তৈরীর জন্য একটি বিশাল কিন্তু নিখুঁত পাথরকাটা ব্লক

এখন কথা হলো শয়তান এই বড় বড় স্থাপনা বানাতে কেন মানুষকে সাহায্য করতো?

প্রথমত, নিজের ক্ষমতা দেখাতে। বিশাল বিশাল স্থাপনা মানুষকে চমৎকৃত ও শয়তানের দিকে আকৃষ্ট করতে খুব কাজে দেয়, খেয়াল করে দেখবেন আল্লহর জন্য বানানো দুনিয়ার একমাত্র ঘর কাবা একেবারেই সাধারন একটা চৌকো ঘর মাত্র । দ্বিতীয়ত, আল্লাহর দুনিয়ায় তার বিপক্ষের শক্তির বিশাল স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে আল্লাহর বদলে অন্য উপাস্যের আরাধনা হবে। শয়তান এই সাহায্য তার প্রতি আনুগত্যের বদলে করতো আর শয়তান আনুগত্যের বা পুজোর অন্যতম বড় অনুষঙ্গ হলো নরবলি।

নরবলিঃ আমরা যখন কোরানে পিতা হয়ে ইবরাহীম (আঃ)র পুত্র ইসমাইল (আঃ)র কুরবানীর ঘটনার কথা পড়ি তখন অবচেতন মনে একটু হলে ভাবি,কী নিঃষ্ঠুর! কথা হল আমরা এই আধুনিক যুগের মানুষ প্রকাশ্যে নরবলি সম্বন্ধে খুব একটা অভিজ্ঞতা রাখিনা।কিন্তু নমরুদের সময় ফিলিস্তিনে (Jerusalem) নরবলি খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় ছিলো।
নমরুদ নিজেকে বাল দেবতা বলেও পরিচয় দিতো। বাল দেবতার জন্য সাধারনত পরিবারের বড় ছেলেটিকে আগুনে পুড়িয়ে উৎসর্গ করা হতো। যেমন ইবরাহীম (আঃ)কে আগুন পুড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা । একটা সমাজে যখন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কাউকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার বিষয় আসে স্বাভাবিকভাবে মানুষ একে খারাপ চোখে দেখে ,এমন ঘটনায় শাসকের জনপ্রিয়তা কমে যাবার কথা।কিন্তু, এমন কোন ধরনের প্রতিক্রিয়ার ঘটনা জানা যায়না,তার মানে এমন আগুনে পোড়ানোর ঘটনা সেই সমাজে স্বাভাবিক বিষয় ছিলো। আবার এই আগুন যজ্ঞের সমস্ত কাজ পরিচালিত হয়েছিলো ইবরাহীমের নিজের পুরোহিত বাবার তত্তাবধানে,এটাও বোঝায় এই যজ্ঞ ধর্মীয়ই ছিলো।
এবার আসি ইসমাইল (আঃ)কে কুরবানির ঘটনায়।ইসমাঈল (আঃ) ছিলেন ইবরাহীমের (আঃ) বড় পুত্র,সেই যুগের প্রথামত আল্লাহ তাঁকে তাঁর জন্য বড় পুত্রকেই কুরবানী দিতে বললেন। কিন্তু এইখানে আল্লাহ যে কাজটা করলেন তিনি ইসমাঈল (আঃ)র জায়গায় দুম্বা এনে দিয়ে নরবলিকে পশু কুরবানিতে বদলে দিলেন, একটা উদাহারন সৃষ্টি করলেন বিশ্বাসীদের জন্য যে তোমরা যারা এক আল্লাহতে বিশ্বাস করো তারা নিজের সন্তানকে নয় বরং পশু কুরবানী দাও !১
আল্লাহ কুরানে বলেন,

‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত ও রক্ত কিছুই পৌছায় না,পৌছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া’ (সূরা হজ্জ্ব,৩৭)

বলা বাহুল্য আমেরিকা সহ বিশ্বের যেখানে এখনো শয়তানের পুজো হয় সবজায়গায় আনুগত্যের সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে এখনো নরবলির চর্চা হয়।

মায়ানদের পিরামিডগুলো বলিদানের ইতিহাসের দারুন উদাহারন।তাদের পিরামিডের পাশেই শত শত বলিকৃত কংকাল পাওয়া যায়।প্রাচীন মিশরেও নরবলির উদাহারন পাওয়া যায়।
শয়তান উপাসনার যে বড় নিদর্শন সেই বিখ্যাত গিজার তিন পিরামিডগুলোও কী নরবলির কাজে ব্যবহৃত হত?
গিজার পিরামিডের চারপাশে সেরকম কোন কংকাল পাওয়া যায় না।
একসময় নীলনদ পিরামিডগুলোর খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হত। তখনের মিশরও আজকের মিশরের মত এত রুক্ষ,শুষ্ক ছিলো না। কিন্তু পিরামিডের খুব কাছেই যে পানির কোন স্রোতধারা ছিলো তা নিশ্চিত। বলিকৃত দেহগুলো যদি সেই পানিতেই ফেলা হয় তবে আজ আর তার কোন চিহ্ন থাকার কথা নয়। ফেরাউনের নীল নদ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিল, অনেকেই হয়তো জানেন মিশরের নীল নদ প্রতিবছর একবার করে প্রবাহিত হতে বন্ধ হয়ে যেতো,একজন কিশোরী মেয়েকে বলি দিলে তবেই পানি প্রবাহিত হত। উমর (রাঃ)র খেলাফতকাল পর্যন্ত এই প্রথা চলে আসছিলো যা উমর (রাঃ)র এক আদেশ সূচক চিঠি নদীতে ফেলে চিরদিনের মত বন্ধ হয়ে যায়। তারমানে নীলনদে নিয়মিত নরবলি দেয়া হত।

এখন কথা হলো ফেরাউনকে কেন নীল নদের অধিপতি বলা হতো?

শুধু কোরানে বর্নিত ফেরাউন না, মিশরের সব ফারাও নীলনদের অধিপতি হিসেবে বিবেচিত হত; এর পিছনে দুটো মতামত পাওয়া যায়; ১। তাদের উপাস্যের ক্ষমতায় তারা দুনিয়া ক্ষমতা প্রদর্শন করতো , নীলনদ যে বলি না দিলে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়ে যেতো তা উমর (রাঃ)র জীবনী থেকে সুস্পষ্ট।
। নীলনদকে মনে করা স্বর্গীয় নদী , এই নদী নিজেই স্বয়ং এক দেবতা যেমন এই উপমহাদেশের গঙ্গা। প্রাচীন মিশরের এত প্রচন্ড সমৃদ্ধির মূলে ছিলো এই নদী, এই নদীর মারাত্নক অবদান ছিলো তাঁদের কৃষিতে,খাদ্যে, বানিজ্যে,পরিবহনে,পর্যটনে সহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে ,এই নদী যেন মিশরের বুক চিরে এর প্রতিটি জনপদকে সমৃদ্ধিতে ছুয়ে ছুয়ে গেছে।এত বেশী স্ম্পত্তি উদ্ধৃত থাকতো যে ফারাওরা তা জনগনের মধ্যে বিলিয়ে দিতো।তবে এতে মনে করার কিছু নেই যে তারা খুব মহৎ শাসক ছিলো,অন্যায়,অবিচারে তারা ছিলো শ্রেষ্ঠ।আল্লাহ বলেন,

হে মূসা!তুমি ফেরাউনের কাছে যাও। সে উদ্ধত হয়ে গেছে।’ (সূরা ত্বোহা)

‘তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও,সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে।'(সূরা ত্বোহা)

শুধু তাই নয় প্রতিটি বাড়িকে খাল খননের মাধ্যমে নীলনদের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছিলো,এমন খাল পিরামিডগুলোর সাথেও যুক্ত ছিলো।

কোরানে এর উল্লেখ আছে,

‘ফিরাউনের কওমের নেতৃবর্গ ফিরাউনকে বললো, আপনি কি মূসা ও তাঁর কওমকে মুক্ত ছেড়ে দিবেন? যাতে তারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করতে পারে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদের বর্জন করতে পারে? (সূরা আরাফঃ১২৭)

তার মানে নিজেকে খোদা দাবি করা ফেরাউনের নিজেরও প্রভু ছিলো যে ছিলো তার একচ্ছত্র ক্ষমতার মূল জোগানদাতা।একই ঘটনা নমরুদের বেলায়ও প্রযোজ্য যে নিজেকে স্বয়ং বাল দেবতা বলতো,এই উপাসক নির্দিষ্ট উপাসনার ও উতসর্গের বিনিময়ে নিজের নাম তাদের উপাসকদের ব্যবহার করতে দিতো।৩

শুধু যে আকাশ্চুম্বি বিশালাকার স্থাপনা,নদী নিয়ন্ত্রণ আর বলি দিয়েই মানুষকে মুগ্ধ ও বশ করে রাখা হত তা না অন্যান্য কালো জাদুও ব্যবহৃত হত।সাপ কালোজাদুর অন্যতম অনুষঙ্গ।

সাপঃ সাপের জন্য একটু কোরানে যাই। মূসা (আঃ) তাঁর দশ বছরের মাদায়েন প্রবাস ত্যাগ করে মিশরের প্রতি রওনা দিলেন যখন পথিমধ্যে তূর পাহাড়ের পাদপদেশে তিনি আল্লাহর কাছ থেকে নবুওয়ত লাভ করেন। নবুওয়ের এই কথপোকথনের পুর রেকর্ড কোরানে আছে। সেই কথোপকথনের এক পর্যায়ে আল্লাহ মূসা (আঃ) তাঁর হাতে থাকা সাধারন একটা লাঠিকে নির্দেশ করে এটাকে জোড়ে ভূমিতে ছূড়ে ফেলতে বললেন। ছুড়ে ফেলতেই এটা সাপে পরিনত হল। মূসা (আঃ) শারিরিকভাবে অনেক শক্তিশালী হলেও একটু ভীতু ছিলেন।সাপ দেখেই তিনি পালানোর জন্য ছুটোছুটি শুরু করলেন অথচ আল্লাহ তখনো তাঁর সাথে কথোপকথনে আছেন, স্বয়ং আল্লাহকে বলতে হয়েছে,মূসা ,মুসা থামো,ভয় পেয়োনা। অনেক বঝিয়ে তিনি মূসা (আঃ)কে সাপটিকে নিজ হাতে ধরাতে সক্ষম হলেন,সাপটি ধরতেই আবার সেই পূর্বের লাঠিতে পরিনত হল। এই সাপের ঘটনাটা খুবই উল্লেখ্যযোগ্য।

মাদয়াইন থেকে মিশরে যাবার পথে মুসা ও তাঁর ভাই হারুন (Aaron) দুজনই নুবওয়ত লাভ করে, সেই সাথে কী কী করতে হবে তার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। সাপের ট্রেইনিং দিয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে শিক্ষা দিলেন কালো জাদুর মোকাবেলারও।
ফেরাউনের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই তাঁকে এই সাপের মুজিজা প্রদর্শন করতে হয়েছে। ফেরাউন নিজে এই সাপের জাদু পারতো না,তার পোষা জাদুকরের দল ছিল। মূসাকে শায়েস্তা করতে ফেরাউন এক উন্মুক্ত ফেস টু ফেসের আয়োজন করলো। রাজ্যের সমস্ত বড় জাদুকররা সেখানে সমবেত হল,ফেরাউন আসলো সাথে রাজ্যের অনেকে।

সবার সামনে মূসা (আঃ) আগে জাদুকরদের তাদের খেলা দেখাতে বললো।রাজ্যের সমস্ত জাদুকর তাদের জাদুর লাঠি আর দড়িকে সাপে পরিনত করে ছেরে দিলো। উপস্থিত সবাইতো মুগ্ধ, যথারীতি এত সাপ দেখে মূসা (আঃ) ট্রেনিং ভুলে ভয় পেয়ে গেলেন। আমাদের এখানে বুঝতে হবে,নবীরা মানুষ হিসেবে সুপারম্যান বা অতিমানব কিছু না,তিনারা আমাদের মতই মানুষ ,যা তাঁদেরকে আমাদের চেয়ে ভিন্ন করে তা হলো তাঁদের তাকওয়া বা আল্লাহ ভরসা।
এমন অবস্থায় আল্লাহ ওহী নাযিল করলেন,

তুমিই বিজয়ী হবে,তোমার ডান হাতে যা আছে তা (লাঠি) নিক্ষেপ কর।এটা তাঁদের যা কিছু আছে সব গ্রাস করে ফেলবে। তাঁদের ওসব তো জাদুর খেল মাত্র।বস্তুত জাদুকর যেখানেই থাকুক সে সফল হবে না।(সূরা ত্বোহা-৬৮,৬৯)

আল্লাহকে মনে করিয়ে দিতে হল কী করতে হবে। মূসা (আঃ) নিক্ষেপ করলেন আর এবারের সাপটা ছিলো তূর পর্বতেরটার চেয়ে বিশালাকার। এতা একে একে ময়দানের সমস্ত সাপ গিলে ফেললো আর বীরদর্পে মাঠে ঘুরতে ফিরতে লাগলো। মূসা (আঃ) এবার সাহস করে সাপটা ধরতেই এটা আবার সামান্য লাঠিতে পরিনত হল।ফেরাউনের জন্য কী লজ্জা।

মিশরের সর্প দেবতার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল আপেপ (Apep),এটা ছিলো এক বিশালাকার সর্প দেবতা। আপেপ ছিলো আবার দেবী রা এর ভাই, রা এর মাথায়ও সাপ পেঁচিয়ে থাকতো। রা এর মহিলা সঙ্গী (consort) ছিলো আবার শেকমেত (shekmet), শেকমেত আবার ছিলো সিংহদেবী যেমন সিংহের উপর অধিষ্ঠিত দূর্গা দেবী। শেখমেত আবার গরু দেবতা নুতের (Nut) সাথে এক যুদ্ধের জন্য বিখ্যাত।

Image result for battle of cow/ancient egypt
গরুরুপি নুত দেবী

মিশরীয় দেব দেবীদেরকে আমাদের কাছে ভারতীয় উপমহাদেশের বা অন্যান্য যেকোন অঞ্চলের দেব দেবী থেকে আলাদা মনে হলেও নদী পুজো,নারী পুজো,গরু,সাপ,বলি ইত্যাদি অনুষংগে ঘুরে ফিরে মূল সেই একই।

প্রথম পর্বের লিঙ্কঃ এক প্রভু বনাম বিতাড়িত শয়তানের ইতিহাস পর্ব ১

তথ্যসূত্রঃ ১। https://www.redlandsdailyfacts.com/2007/01/11/baal-ashtoreth-and-molech-gods-old-testament-rivals/

২। http://www.asor.org/anetoday/2018/08/Ancient-Egypt-Sacrifice )

৩।Fir’awn Who Was Drowned

৪। Demon Power Built the Pyramids (ভিডিওটা তিনঘন্টার, কিন্তু যাদের পিরামিড নিয়ে আগ্রহ আছে তাঁদের জন্য অবশ্যই দেখার মত)

নবীদের সন্তানহীনতাঃ সবর পর্ব ১

ইবরাহীম (আঃ)র প্রথম স্ত্রী সারাহ (আঃ) বন্ধ্যা ছিলেন, সারাহ (আঃ)র বন্ধ্যাত্বের এই পুরোটা সময় ইবরাহীম (আঃ) একবারের জন্যও অধৈর্য হননি।চাইলেই এক হালি বিয়ে করে বাবা হবার চেষ্টা করেননি। বিশ্বস্ত স্বামীর মত সারাহর পাশেই ছিলেন আর একনিষ্ঠ মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করে গেছেন।নবীরা সততা ও ব্যক্তিত্বে অন্যদের থেকে আলাদ হয়ে থাকেন,তবে এসব উদাহারন বাদবাকী মুমিনদের জন্যও আদর্শ।আল্লাহ রব্বুল কুরআনে যখনই সুযোগ পেয়েছেন ইবরাহীম (আঃ)র অকুন্ঠ প্রশংসা করেছেন,কোন নবীর প্রশংসা কুরানে এতবার আসেনি।স্বয়ং আল্লাহ তাঁকে সালাম পৌছুতেন!

ইবরাহীমের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (সূরা সাফফাত)

তাঁর দীর্ঘ দোয়ার প্রথম ফল তিনি পান যখন তাঁর বয়স নব্বই; দেখা পান প্রথম সন্তান ইসমায়েলের (আঃ)র।এতটা বয়স অধৈর্য হবার জন্য,হাল ছেড়ে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিলো, কিন্ত তিনি দোয়া থামাননি। ইবরাহীমের বিনীত সবরে সন্তুষ্ট আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে উপহার দিলেন তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ইসহাক (আঃ)।ইসহাক (আঃ)র জন্য সারাহ বা ইবরাহীম কেউই প্রস্তুত ছিলেন না।ফেরেশতারা যখন তাঁদেরকে ইসহাকের জন্মের সুসংবাদ দিলেন তখন সারাহ প্রথমে হেসে দিলেন পরে কপালে করাঘাত করে বলেন এটা এই বয়সে কিভাবে সম্ভব! কিন্তু এটা ছিলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের সবরের দ্বিগুন প্রতিদান। দীর্ঘ একশ বছর যে ইবরাহীম (আঃ)র ঘর সন্তানহীন শুন্য পরে ছিলো সেই পিতার দুই সন্তান ইসমাইল ও ইসহাক (আঃ)তে আল্লাহ রব্বুল আলামিনে এত বরকত দিলেন যে এই বিরাট পৃথিবী মানবজাতিতে আবাদ হয়ে গেলো,সুবাহানাল্লাহ!

‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর,যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন’ (সূরা ইবরাহীম)

ইসহাক (আঃ) বয়োপ্রাপ্ত হলেন ,বিয়েও হল, কিন্তু সন্তান নিয়ে আবার পিতা ইবরাহীম (আঃ)র পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন,স্ত্রী রেফকা যথারীতি বন্ধ্যা। আল্লাহর পরীক্ষা সবরের সাথে মেনে নিয়ে তিনি যথারীতি নবুওয়তের কাজ ও দোয়া চালিয়ে যেতে লাগলেন।

দীর্ঘ সবরের পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে দোয়া কবুল হল,এক সন্তানের জায়গায় ইসহাক (আঃ) বাবা হলেন যমজ সন্তান ইস ও ইয়াকুব (আঃ)র (সবরের প্রতিদান দ্বিগুন)। ইয়াকুব (আঃ) বড় হলেন ,নবুওয়ত পেলেন সাথে শুরু হয়ে গেলো ভাই রইসের হিংসা। মা রেবেকার পরামর্শে ইয়াকুব (আঃ) পিতৃভুমি ফিলিস্তিন (কেনান) ছেড়ে রওনা দিলেন মামা লাবানের বাসস্থল হারানের উদ্দ্যেশে।

মামার দুই মেয়ে। ইয়াকুব (আঃ)র পছন্দ হল ছোট মেয়ে রাহীলকে (Rachel)। মামাকে জানালেন তাঁর পছন্দের কথা,মামা শর্ত দিলেন যেহেতু ইয়াকুব (আঃ)র কাছে ওত সহায় সম্পত্তি নেই রাহীলকে বিয়ে করতে তাঁকে তাঁর কাছে সাত বছর কাজ করতে হবে ,ইয়াকুব (আ;) মেনে নিলেন। এর সাথে মিল আছে শোয়েব (আঃ)র মেয়ে বিয়ে করার জন্য নবী মুসা (আঃ)র দশ বছর কাজের।

কিন্তু বিয়ের সময় মামা কথা উলটে বিয়ে দিতে চাইলেন বড় মেয়ে লাইয়ার সাথে। তবে মামার কথাও ফেলে দেবার মত নয়,তাইতো, বড় বোনের বিয়ে না হয়ে ছোট বোনের বিয়ে হলে কিছু সমস্যাতো হয়ই!

ইয়াকুব (আঃ) সব মেনে বিয়ে করে নিলেন লাইয়াকে; কিন্তু তিনি তখনো পছন্দ করেন রাহিলকে।মামা লাবান তাকে রাহীলের দেনমোহরানা বাবদ আরো সাত বছর কাজ করতে বললেন। দাদার মতই ধৈর্যশীল নবী ইয়াকুব আরো সাত বছর কাজ করে পেলেন রাহীলকে। দুই বোন একই সাথে নবী ইয়াকুবের স্ত্রী হলেও এদের সন্তান জন্ম দানের প্যাটার্ণ ছিলো ভিন্ন ভিন্ন।

বিয়ের পর থেকেই লাইয়ার ঘরে একে একে সন্তান জন্ম নিতে থাকলো।একে একে জন্ম নিলো দশ সন্তান আর রাহীলের ঘরে সন্তানের দেখা নেই,সারাহ (আঃ) আর রেফকার বন্ধ্যাত্ব তাকেও পেয়ে বসলো।

ইয়াকুব (আঃ) সবরের সাথে দোয়া করতেই লাগলেন এবং আল্লাহ দোয়া কবুল করলেন ,জন্ম হলো ইউসুফ (আঃ) ও বেন ইয়ামিনের (আবারো খেয়াল করুন সবরের প্রতিদান দ্বিগুন)। ছোট ছেলে বেন ইয়ামিনের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান রাহীল। এখানে রাহীলের ভাগ্য দেখুন,একেতো ইয়াকুব (আঃ)কে বিয়ে করতে সাত যোগ সাত চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা, বিয়ে পরবর্তী সন্তানের অপেক্ষা তারপর দুই শিশু সন্তানের বেড়ে ওঠা না দেখেই মৃত্যু। আপন বোন আর দশ পুত্র সন্তানের মা হবার পরও লাইয়া বোন রাহীলকে ইয়াকুব (আঃ)র ইউসুফ প্রীতির কারনে হিংসা করতো, সেই পুরনো সারাহ (আঃ) আর ভাই ইসের হিংসা।

কারন বেশী সন্তান সময়মত জন্ম দিয়ে লাইয়া ছিলেন দুনিয়ার হিসেবে ভাগ্যবতী কিন্তু রাহীল ছিলেন আখিরাতের হিসেবে ভাগ্যবতী, তাঁকে যে এই কষ্টটুকু পেতেই হতো কারন ইয়াকুব (আ;)র এই বারো পুত্রের মধ্যে শুধু তাঁর ছেলে ইউসুফই একমাত্র নবী হয়েছিলেন,হয়েছিলেন মিশরের আযীয,কুরআনে ইউসুফ (আঃ)র জীবন কাহিনীকে স্বয়ং আল্লাহ অভিহিত করেছেন আহসানুল কাসাস বা সুন্দর কাহিনী হিসেবে। আজও দুনিয়ার দিকে দিকে মুসলমানেরা দুনিয়াবী কারনে ব্যথিত হৃদয় হলেই পড়েন এই সূরা ইউসুফ,সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহ যার ভালো চান শুধু তাকেই যে কষ্টের পর কষ্ট দেন।আর ইউসুফ (আঃ)র কষ্টের কথাতো সুবিদিত; ইবরাহীম (আঃ) তাঁর কলিজার টুকরো ইসমাইল (আঃ)কে মক্কায় রেখে সারাজীবন যে বিচ্ছেদের কষ্ট সয়েছেন , ইয়াকুব (আঃ)কেও সইতে হয়েছে ইউসুফ (আঃ)কে হারিয়ে ফেলার তীব্র যাতনা। ইউসুফের শোকে কাঁদতে কাঁদতে এই আপাদমস্তক বিশ্বাসী মানুষটারও দুচোখ সাদা (অন্ধ) হয়ে গিয়েছিলো, আহা!

‘ইয়াকুবকে এবং তাঁর বংশধরদের প্রদান করলাম নবুওত ও কিতাব। তাঁকে আমি দুনিয়াতে পুরষ্কৃত করলাম।নিশ্চয়ই পরকালে সে সৎ লোকদের অন্ত র্ভুক্ত হবে!’ (সূরা আনকাবুত)

আসলে আল্লাহ যাকে নিজের কুরবানীর জন্য বেছে নেন তাঁকে কষ্টেই রাখেন, ইসমাঈলের বংশের জন্য উনি বরাদ্দ রেখেছিলেন সকল নবীদের সেরা রাসূল (সাঃ),সুবাহানাল্লাহ, যেই নবীর ইমামতিতে মেরাজে নামায পরেছেন বাকী আর সব নবীগণ।

রাসূল (সাঃ) খুব গর্ব করে বলতেন আমি দুই কুরবানীকৃত পিতার সন্তান, তাঁর পূর্ব পুরুষ ইসমাঈল (আঃ) ও পিতা আবদুল্লাহ দুইজনকেই আল্লাহর উদ্দ্যেশ্যে কুরবানী দেয়ার সমস্ত কাজ শেষ হয়েছিলো।

ইয়াকুব (আঃ)র আরেক বংশধর যাকারিয়া (আঃ)ও সন্তান ইয়াহিয়াকে পেয়েছিলেন জীবনের শেষ বয়সে,যখন তাঁর পেকে সাদা হয়ে গিয়েছিলো,হাঁড় দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো, তাঁর সেই বিখ্যাত দোয়া,  ‘হে আল্লাহ,আমিতো আপনাকে ডেকে কখনো বিফল মনোরথ হইনি’ (সূরা মরিয়ম) আর মরিয়মের পিতা ইমরানতো নিজের জীবদ্দশায় তাঁর দীর্ঘ দোয়ার উত্তর কন্যা মরিয়মকে দেখেও যেতে পারেননি! পড়ুনঃ সূরা আলে ইমরানঃ এক পিতার দোয়া কবুলের কাহিনী

ইবরাহীম,ইসমাঈলের বংশধর মুহামদ (সঃ)র জীবনেও ভালোবাসা ও সন্তান নিয়ে কম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি। পর

মহান করুনাময় আল্লাহ তায়ালা তাঁকে চার চারটি পুত্র সন্তান দিয়ে আবার নিয়ে গেছেন। না পেলে নেই কিন্তু বারবার পেয়ে হারানোর যে ভয়ংকর কষ্ট তা রাসূল (সাঃ)কে দফায় দফায় সহ্য করতে হয়েছে, কিন্তু কোরান হাদীস কোথাও ঘেঁটে কোথাও রাসূল (সাঃ)র এতটুকু অভিযোগ খুঁজে পাবেন না,তিনি আরো দেখেছেন তাঁর তিন কন্যার মৃত্যু।

[তাঁর সন্তান হবার ব্যাপারটিও আশ্চর্যের। পুত্র ইবরাহীম বাদে বাকী সব সন্তানই হয়েছে আম্মাজান খাদীজা (রাঃ)র ঘরে, অথচ উনি যেই বয়সে একের পর এক সন্তান জন্ম দিয়ে গিয়েছেন সে সময় দুনিয়ার বাকী মহিলাদের বন্ধ হয়ে আসে।খাদীজা (রাঃ)র এই বেশী বয়সে এত সন্তান জন্মদান সারাহ (আঃ)র মাথার চুল সাদা হয়ে যাবার পর ইসহাক (আঃ)র জন্মর মতই আশ্চর্য ঘটনা। এরপর রাসূল (সাঃ) একে একে অনেকগুলো বিয়ে করেছেন কিন্তু কেউই আর সন্তান জন্ম দিতে পারেননি।

আরও আগ্রোদ্দীপক হলো না আয়েশা (রাঃ)র সন্তানহীনতা, উনার যে বয়সে বিয়ে হয়েছে এবং উনি যতদিন রাসূল (সাঃ)র সাথে ছিলেন এটাই একটা মেয়ের সন্তান জন্ম দেবার সেরা সময় কিন্তু উনার কোন সন্তানই ছিলো না, এ যেন ঘুরে ফিরে সেই নববী বন্ধাত্য।]

তবে মনে রাখতে হবে নবীদের জীবনে বা কোরানে যত সন্তানহীন্তার কথা এসেছে সবই সাময়িক, একটা নির্দিষ্ট সময়ের সবর ও দোয়ার পর্ব পেড়িয়ে সকলেই সন্তানের মুখ দেখেছেন এক আয়েশা (রাঃ) ছাড়া অবশ্য উনার সন্তান কাতরতা কোন তথ্যও পাওয়া যায়না।

তাই যারা বিয়ে,সন্তানহীন তারা অন্যদের টুপটাপ সন্তান হতে দেখেই কখনো ভেঙ্গে পরবেন না,আপনজনের কটু কথায় হাল ছেড়ে দিবেন না, আল্লাহ আপনাকে সন্তান দিতে দেরী করছেন,এত পরম সৌভাগ্য,নবীদের ভাগ্য,সবর করে কোরানে শেখানো নবীদের দোয়া পড়তে থাকুন, আল্লাহ কবুল করবেনই।ভালো কিছু দেরীতেই আসে।

আর যাদের স্বামীর মৃত্যু বা অন্যান্য কারনে আর সন্তান হবেনা তারা মা আয়েশা (রাঃ) হয়ে যান, আত্নমর্যাদা আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে কাজ করে যান।

মানবজাতি শুধুমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীনের ইবাদতের জন্যই সৃষ্ট কিন্তু পরম করুনাময় কখনো সন্ন্যাসী,সংসার বৈরাগী হয়ে শুধু তাঁর ইবাদতে সন্তুষ্ট হতে চাননি। তিনি ইবাদতের পরম ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন দু;খ-কষ্ট, হিংসার যুদ্ধক্ষেত্র এই ‘সংসার’,সবর আর দোয়া এই যুদ্ধের একমাত্র হাতিয়ার!

মক্কা নগরীর গোড়াপত্তন ও দুই নারীর কাহিনী

 

ছোট্ট এক বালিকার পিরিয়ড ও রাসূল (সাঃ)

ফেসবুকে কোরিয়ান এক মহিলার পিরিওডের কাহিনী খুব ছড়িয়েছে,ভাবলাম রাসূল (সাঃ)রও একটা কাহিনী আছে,সেটা বলা দরকার।

খাইবারের যুদ্ধের সময়ের ঘটনা।
দলের এক বাচ্চা মেয়েকে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) তাঁর উটের পেছনে তুলে নিলেন।উটের পিঠে অনেক মাল সামাল টাল করে রাখা।বাচ্চা মেয়েটাকে বসানো হলো সেই মালের স্তুপের ওপর।
সকাল বেলা হলে যাত্রাবিরতির সময় হলো।আল্লাহর রাসূল(সাঃ)উট থেকে নেমে পড়লেন।কিন্তু বাচ্চা মেয়েটি নামতে গিয়ে দেখলো তার বসার জায়গায় রক্ত লেগে আছে।
মেয়েটি লজ্জায় কুঁকড়ে গেল,এ কী হয়ে গেল!এমন কান্ড ঘটবে সেতো কল্পনাই করেনি।সে চুপটি করে উটের পাশে বসে রইলো।নবীজি (সাঃ)র ছিলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।মা যেভাবে করে তার সদ্যজাত শিশুর জন্য প্রতিমুহূর্তে খেয়াল রাখে ,সাহাবীদের সবার জন্য তাঁর তার চেয়েও বেশী খেয়াল থাকতো।তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন বাচ্চা মেয়েটা কেমন এক অস্বস্তিতে গুটিসুটি মেরে আছে।
তিনি এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,’কী হয়েছে তোমার?মাসিক হয়েছে?’ মেয়েটি বলল,’হু’!কিছুই হয়নি,এমন ভঙ্গিতে নবীজি তাকে বললেন, ‘আচ্ছা,ঠিক আছে।তুমি পরিষ্কার হয়ে নাও।এরপর একটা জগে পানি আর কিছু লবন নিয়ে মালামাল থেকে রক্তগুলো পরিষ্কার করে ফেলো। এরপর আবার উটের পিঠে বসে পড়ো’।
সেই বাচ্চা মেয়ে নবীজির কথামতো সবকিছু করলো।
যুদ্ধ শেষে গনিমত ভাগাভাগি করার সময় এল।যুদ্ধে অংশ নিলেও নারী ও শিশুরা গনিমত পায় না,তবে আমীর চাইলে দিতে পারেন।রাসূল (সাঃ)যুদ্ধের পর এত এত সৈনিকের মাঝেও আলাদা করে সেই ছোট্ট উমাইয়ার নাম মনে করেছিলেন আর গনিমতের সম্পদ থেকে একটা গলার হার নিয়ে নিজ হাতে তার গলায় পরিয়ে দিয়েছিলেন।
ছোট্ট উমাইয়া (রাঃ) নবীজির সেই স্নেহ আর উপকার সারাজীবন ধরে মনে রেখেছিলেন। তিনি যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন তখন হাদীস সংগ্রহকারীর কাছে বলেন,’আল্লাহর শপথ!যে হার আমার ছোটবেলায় আল্লাহর রাসূল(সাঃ) আমাকে দিয়েছিলেন,সেই হার আমি কখনো খুলিনি!’
মৃত্যু এসে তাকে এই দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ,তখনো তার গলায় সেই হার ঝুলছে,যেন আখিরাতের সেই সুদীর্ঘ একাকী সফরে পা বাড়ানোর সময়েও আল্লাহর রাসূলের স্নেহটুকু তিনি বুকে করে যাত্রা শুরু করলেন।

*আল বিদায়া আল নিহায়া,৪র্থ খন্ড,পৃ-৩৬৬
সীরাহ রেইনড্রপ্স,২য় খন্ড,পৃ-২৩৯-২৪০

seerah

বিয়ে,সাজসজ্জা ও ইসলাম

বাংলাশের বিয়ে আয়োজনে বউকে মঞ্চের উপর বসিয়ে রাখা আমার কাছে বেশ অদ্ভুত লাগে। আমার অনেক বান্ধবীই স্রেফ লাল শাড়ি,বিয়ের দিনের ভারী মেকআপ সমৃদ্ধ সাজগোজের জন্যই বিয়ে করে ফেলেছে।আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে তোমার সখ হয়না আমি প্রতিবারই উত্তরে বলি অমন ধবধবে সাদা মেকাপ নিয়ে স্টেজে বসে থাকার সখ অন্তত আমার কখোনি হয়নি।

বিয়ের দিন,প্রিয়জনের জন্য আপনি অবশ্যই নিজের সেরা সাজটাই সাজবেন কিন্তু এখানে আপনি বউতো না যেন মঞ্চে বসা কোন লাইভ পারফর্মিং আর্ট,বাকীরা নীচে চেয়ার নিয়ে বসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কোন পার্লারের সাজ কেমন হল,গয়নাপাতি আর কাপড়ের দাম-মান।

অথচ মেয়েদের জন্য মেকআপ কিন্তু হারাম কিছু নয়,এটা মেয়েদের স্বভাব,ফিতরাত।তাকে আজকের আধুনিক জগত ছেড়ে জঙ্গলে রেখে আসলেও সে কিছুদিন পর ঠিকই কিছু না কিছু থেকে রঙ খুঁজে নিয়ে নিজের গালে,ঠোঁটে মেখে নিবে,চোখের নীচটা এঁকে নিবে,আজকালের ব্লাশ ওন,কাজল,আইলানার,কাজল। ইসলামও মেয়েদের এই স্বভাব অস্বীকার করে না।

হাদীসেই আছে, ‘মেয়েদের জন্য রং হালাল,পুরুষের জন্য সুগন্ধী’।

যেমন, মেয়েদের কালো ছাড়া অন্য যেকোন রঙে চুল রাঙ্গানোও (হেয়ার ডাই) হালাল।

কিন্তু শর্ত হল,এর কোন সাজসজ্জাই মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে দেখানো যাবেনা।

তবে সব মেকআপ বা মেকওভার সামগ্রী এই হাদীসের নির্দোষ ক্যাটাগরিতে পরেনা যেমন আলগা পাপড়ি(আইল্যাশ),কন্ট্যাক্ট লেন্স। পরচুলা পরা হারাম হলে আলগা পাপড়ি,কন্ট্যাক্ট লেন্স লাগানোও হারাম হওয়ার কথা কিন্তু কেন জানি এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে দেখিনা। ভ্রু প্লাকতো হারামই! বুখারী আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্নিত,

‘আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নরনারীদের উপর,যারা দেহে উল্কি আঁকে ও একে দেয়,যারা ভ্রু চেঁছে সরু করে,যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে,যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে!’

আমার পরিচিত অনেককেই বলতে শুনি,ভ্রু প্লাকতো করতে চাইনি,কিন্তু বিয়ের দিন পার্লারে জোর করে দিয়েছে,বা বিয়ের দিন পার্লারে করেই দেয়। এই কথাটা শুনে ভাবি ,জোর করে পার্লারে ভ্রু প্লাক করা আর বিয়ের প্রলোভনে ওইটা করে ফেলা একই যুক্তির! (অন্য আরেক হাদিস মতে স্বামীর জন্য ভ্রু প্লাক করা জায়েজ)

ভ্রু প্লাক হারাম হওয়ার একটা বড় কারন চেহারার ধরন বদলে যাওয়া। আইভ্রু মানুষের চেহারার সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইডেন্টিকাল হেয়ার।ছবি এডিটং টুল ব্যবহার করে আইভ্রুটা সরিয়ে ফেলবেন বাঁ উনিশ বিশ করে দেখবেন,আপনার চেহারা পুরোই বদলে যাবে। আমি আমার পরিচিত অনেককেই আইভ্রু প্লাক করে ওভারনাইট নিজের চেহারা বদলে ফেলতে দেখেছি, ওভাল শেপ দিলে চেহারা এক রকম হবে আবার স্ট্রেইট বা তির্যক রাখলে আরেক রকম হবে।সার্জারি ছাড়া চেহারায় সস্তায় এত বদল শুধু আইভ্রু প্লাক করেই সম্ভব আর এজন্যই এটা হারাম।

অনেকেই আছেন অন্য সময় পরিপূর্ণ পর্দা করেন কিন্তু নিজের বা অন্যের বিয়ের দিন পর্দা বাসায় খুলে আসেন,কেউ স্বেচ্ছায় আবার কেউ সমাজের চাপে। আজকাল অনেকে হিজাব পরে বিয়ে করছেন,আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু মেকাপ করে মুখ খোলা রাখা সম্ভবত জায়েজ কিছু না,মুখ খোলা রাখতে হলে তা একেবারেই নিরাভরন হতে হয়।

এখন মনে হতে পারে ইসলাম কত্ত কঠিন,সব হারাম,সব নিষেধ! আসলে তা নয়,ইসলাম মানুষের বাহিরের মেকী লোক দেখানো সৌন্দর্যের চেয়ে আত্নিক সৌন্দর্য্য ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে বেশী জোড় দেয়। একজন পুরুষ যার মাথায় চুল নেই (মাথায় চুল না থাকা খুঁত নয়,আমরা যার যার জায়গায় কেউই নিখুঁত নই) কিন্তু মাথাভর্তি পরচুলো লাগিয়ে কাউকে ভুল বার্তা দেয়া যেমন দোষনীয় তেমনি ফলস আইল্যাশ,কন্ট্যাক্ট লেন্সও তাই। ইসলাম এখানে সততাকে প্রাধান্য দেয়।আল্লাহ যা দিয়েছেন তা সন্তুষ্টি ও সবরের সাথে গ্রহন করে আত্নবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

অনেককেই দেখি কুরআন,হাদীসের দলীল দিয়ে একেবারেই মেয়েদের সব কিছু নিষেধ,সব কিছু হারাম বলে দেয়।এটা ইসলামী রীতি না,এরা না বোঝে বাস্তবতা না বোঝে ইসলাম।

আবু হোরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন,

‘আমার কাছ থেকে মেয়েদের প্রতি সদাচারন করার শিক্ষা গ্রহন করো।কেননা,মেয়েদের পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে তৈরী করা হয়েছে।আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে উপরেরটাই সবচেয়ে বাঁকা।অতএব,এদেরকে তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তবে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে।আর যদি ফেলো রাখো তবে বাঁকা হতেই থাকবে।কাজেই মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করো!’(বুখারী)

তাই সময় নিয়ে আস্তে আস্তে বোঝাতে হবে, ভালোবেসে বুঝিয়ে বললে মেয়েরা শোনে না,এমন মেয়ে কমই আছে।

মক্কা নগরীর গোড়াপত্তন ও দুই নারীর কাহিনী

ইবরাহীম(আ) স্ত্রী হাজেরা (আঃ)কে দূর মরুভুমিতে ফেলে এসেছিলেন!আমরা ভাবি উনারা মানুষ না জানি কত শক্ত হৃদয়ের ছিলেন,এসব নবী,রাসূলদের দ্বারাই সম্ভব, আমরা এসব পারবো না!

ইবরাহীম (আ)র সাথে বিয়ের পর থেকেই হাজেরা (আ) সুখী ছিলেন না! কারণ আর কেউ না,যার ইচ্ছায় ইবরাহীম (আঃ) হাজেরা (আঃ)কে বিয়ে করেছিলেন সেই সারাহ (আঃ)!

এর আগেও একবার সারাহ(আঃ)র অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি ইবরাহীম (আ:)র ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন,কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আল্লাহর কাছে বলেছিলেন যে এই কষ্ট তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না,তিনি আর ওই ঘরে আর ফিরে যাবেন না! পারিবারিক অশান্তির আঁচ দোযখের আগুনের চেয়ে কোন অংশে কম নয়!

তাঁর এই প্রচন্ড কষ্টের সময় জিব্রাঈল এলেন সুখবর নিয়ে যে,আল্লাহ তাঁর (হাজেরা)কষ্টের কথা শুনেছেন এবং তিনি তাঁকে বহুগুনে বৃদ্ধি করবেন,তাকে বরকত দিবেন !শীঘ্রই তিনি এক পুত্র সন্তানের মা হবেন এবং সেই পুত্রের নাম রাখা হবে ইসমাঈল অর্থাৎ ‘আল্লাহ যার কথা শুনেন’!সুবাহানাল্লাহ,কষ্টের কী উত্তম প্রতিদান!

হাজেরা (আঃ) মাথা উচুঁ করে ঘরে ফিরে গেলেন এবং সব কথা ইবরাহীম (আঃ) ও সারাহ(আঃ) কে খুলে বললেন!

এই ঘটনার পর ইসমাইল (আঃ)র জন্ম পর্যন্ত সারাহ (আঃ) কিছুটা শান্ত ছিলেন বটে,কিন্তু ইসমাইল (আ)র জন্মের পর আবার শুরু হলো সেই অত্যাচার!শেষে তিনি ইবরাহীম (আঃ)র কাছে আবদারই করে বসলেন,মা ছেলেকে আমার চোখের সামনে থেকে দূরে কোথাও মরুভূমিতে ফেলে আসুন! একদিকে সারাহর পুনঃ পুনঃ জিদ অন্যদিকে হাজেরা ও ইসমাঈলের কষ্টে নবী ইবরাহীম (আ)পড়লেন ভীষন বিপদে!তিনি আল্লাহকে একমনে ডাকতে থাকলেন,যাতে তিনি কোন উপায় করে দেন! অবশেষে আল্লাহ উত্তর দিলেন এবং তা সারাহ (আঃ)র পক্ষে! আল্লাহ রব্বুল আলামিন সারাহ’র ইচ্ছার পক্ষ নিলেন,কিন্তু হাজেরা আর অনেক সাধ্য সাধনার পরে পাওয়া কলিজার টুকরো শিশুপুত্রকে দূর মরুভুমিতে কিভাবে ফেলে আসবেন,কিভাবেই বা থাকবেন ইসমাইল(আ) কে না দেখে!কিন্তু,এ যে নবী ইবরাহীম,তাঁর পরীক্ষা যে চিরকালই কঠিন!তিনি হাজেরাকে আল্লাহর ইচ্ছার কথা খুলে বললেন,আর তিনিও রাজি হয়ে গেলেন,হয়তো অশান্তির চেয়ে জংগলই ভালো!

এসব পড়ে মনে হতে পারে ,সারাহ (আঃ) না জানি কত্ত খারাপ মহিলা!

এই পৃথিবীতে আল্লাহ একেকটা মানুষকে একেক উদ্দ্যেশে পাঠান! সারাহ বড় বড় শাহজাদাদের উপেক্ষা করে ইবরাহীম (আ)কে বিয়ে করেছিলেন,রাজকীয় জীবন যাপন ত্যাগ করে নবীর বড় বিপদের দিনে তাঁর পাশে ছিলেন,হাজেরার সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন!তিনি এক নবীর স্ত্রী ও আরেক নবী ইসহাকের মা! ইসহাক-ইয়াকুব-ইউসুফ(আঃ) তাঁরই সরাসরি বংশধর! তিনি হাজেরা (আ)র কষ্টের কারন হবেন এটাও আল্লাহর ইচ্ছা!

এই কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ রব্বুল আলামীন হাজেরা (আঃ)কে দুই হাত ভরে দিয়েছেন!কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সমস্ত হাজীদের জন্য সাফা মারওয়া সায়ী করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন,মক্কার রানী বানিয়েছেন,মক্কায় যা কিছু উৎপাদিত হতো তাঁর একটা অংশ তিনি পেতেন,তাঁর বংশেই জন্ম নিয়েছিলেন রহমাতুল্লিল আলামিন রাসুল (সা)!

আল্লাহ এইভাবে এক নারীর হিংসাকে এক মহান নগরীর পত্তনের উসিলা করে দিয়েছেন!

মক্কা নগরীর উৎপত্তি Becca বা ‘বাক্কা’ থেকে,কুর আনে দুইটা নামই আছে,যার অর্থ “ক্রন্দন ভূমি/the crying land‘!

তথ্যসূত্র: মুহাম্মদ, মার্টিন লিংস

মহিলাদের মসজিদে নামায ও আয়েশা (রাঃ)র হাদীস

উমর (রাঃ) পর যে দ্বিতীয় সাহাবীর উপর মেয়েদের মসজিদে নামায বন্ধ করার দায় দেয়া হয় উনি আম্মাজান আয়েশা (রাঃ)! তবে অন্তত এই বেলায় একটি সহীহ হাদীস রয়েছে!

হাদীসটি হলঃ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন,’যদি রাসূল (সাঃ) মহিলাদের এ অবস্থা দেখতেন তবে বনী ইসরাইলী নারীদের মত তাদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন! (হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে)

এখন মা আয়েশা রাঃ’র হাদীসটার ভাষাটা দেখুন,’যদি রাসুল সাঃ দেখতেন তবে নিষেধ করতেন’! বাক্যটি ‘যদি ও তবে’ শব্দাবলী দিয়ে শর্তযুক্ত ( if & then, conditional sentence) দুইটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ!

আয়েশা রাঃ নিশ্চয় কোনো বাড়াবাড়ি দেখে এই কথা বলেছিলেন, অবশ্যই বলবেন (এ কথা সত্য যে সবযুগেই কিছু মহিলা সাজগোজ,অলংকার সমৃদ্ধ,আঁটসাঁট পোশাকে মসজিদে যায়) , কিন্তু এই এক ‘যদি ভিত্তিক’ হাদীসে রাসুল (সাঃ)র ‘তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করোনা’ সহ আরও অনেক আদেশমূলক হাদীস রদ হয়ে যায় কিনা,হাদীস শাস্ত্র সে অনুমতি দেয় কিনা!

তার মানে কি এই যে রাসুল (সাঃ) আমাদের চেয়ে কম জানতেন,তিনি জানতেন না যে উনার পর ফিতনার যামানা আসবে,সরল মনে উনি মেয়েদেরকে মসজিদে নামায পড়তে বলতেন আসলে তার মৃত্যু পরবর্তী দুনিয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠবে! আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কী উনাকে সঠিক তথ্য জানাননি,উনি কী সরাসরি আল্লাহর নির্দেশমত চলেননি, উনার মাধ্যমে কী দ্বীন সম্পূর্ন করেননি,নাকি দ্বীনের মধ্যে মেয়েদের মসজিদে নামায পড়া বাদ দেওয়াটা শুধু বাকী ছিলো!

অথচ রাসুল (সাঃ) দজ্জাল,কেয়ামতের লক্ষন,সিরিয়ার হামলা,আখিরাতের বিচার,বেহেশত -দো্যখ সব সব বলে গেছেন এবং আসন্ন পরিস্থিতে মুসলমানদের কী কী করনীয় তা সহ! সাহাবিদের নাম নিয়ে রাসূল (সাঃ)র উপর এটি কতবড় জুলুম,আস্তাগফিরুল্লাহ!

রাসুল সাঃ ‘দেখলে‘ নিষেধ করতেন, কিন্তু দেখেনওনি,করেনওনি! আসলে স্বয়ং আল্লাহ পাকই হুকুম করেননি যে রাসুল (সাঃ) নিষেধ করবেন!

হাদীস শাস্ত্র অনু্যায়ী কোন একটি বিষয়ে একাধিক হাদীস থাকলে কোনো একটি হাদীস পেলেই লুফে নেয়া হয়না বরং এ সম্পর্কিত অনান্য হাদীসগুলোও আমলে নেয়া হয়! যখনই এর ব্যতিক্রম দেখবেন, বুঝে নিতে হবে ব্যতিক্রমকারীদের উদ্দেশ্য ভিন্ন!